প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ‘গণতন্ত্রের ওপর বিষাক্ত তীর নিক্ষেপ’: ফখরুল

../news_img/57135mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য ‘গণতন্ত্রের ওপর বিষাক্ত তীর নিক্ষেপ’।

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ মন্তব্য করেন। বুধবার (১০ জানুয়ারি) সংসদে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গতকাল সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যেন গণতন্ত্রের ওপর বিষাক্ত তীর নিক্ষেপ। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে তীর্যক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য তিনি রেখেছেন তা শুধু অনভিপ্রেত বা দুঃখজনকই নয়, বরং এটি রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় দানা বাঁধবে। প্রধানমন্ত্রীর কুৎসামূলক অপপ্রচারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক বিভেদ-বিভাজনকে আরও প্রসারিত করবে এবং গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাকে দানবীয় শক্তি প্রয়োগে বাধা দেওয়ার শামিল বলে গণ্য হবে।

ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীনদের অনাচার-অপকর্মের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। খালেদা-ভীতির কারণেই ক্ষমতাসীনদের মস্তিষ্কে গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, এটাই হচ্ছে খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা, বিএনপি’র সাফল্যের চাবিকাঠি। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়ের হাওয়া তুলতে খালেদা জিয়া সফল হয়েছেন বলেই প্রধানমন্ত্রী অসংযত, অসংসদীয় কথাবার্তা বলছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত করতে বিএনপি দৃঢ় বদ্ধপরিকর।

শেখ হাসিনা সারাদেশে নির্বাচনের আওয়াজ দিলেও বিষাক্ত-প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য দিয়ে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক নির্বাচনী পরিবেশকে কলুষিত করছেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এ নেতা।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের আগামী দিনের স্বচ্ছ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশাকে প্রধানমন্ত্রী দুঃস্বপ্নে পরিণত করছেন।

বিএনপি মহাসচিবের অভিযোগ, অতি ক্ষমতালিপ্সা সরকারের উর্দ্ধতনদের বিবেককে অবশ করে দিয়েছে। খালেদার বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যার ধারাবর্ষণ করে ক্ষমতাসীনরা দেশে এক বিধ্বংসী বিপজ্জনক অভিযানে নেমেছে। অনাচারমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার জন্য জবাবদিহিতার সব প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে দিয়েছে এই সরকার। জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে গিয়ে মিথ্যা ও অপপ্রচারকে কায়েমী ও দৃঢ়মূল করতে ভ্রান্ত-নীতি প্রয়োগ করছেন ক্ষমতাসীনরা। মিথ্যাকে কখনোই সত্য বলে চালানো যাবে না।

ফখরুল বলেন, এই অবিরাম ডাহা মিথ্যা কথার প্রতিক্রিয়ায় জনমনে আওয়ামী লীগ সরকার মিথ্যাবাদী সরকার বলেই সুপ্রতিষ্ঠিত।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বেপরোয়া দুর্নীতিকে উন্নয়নের বড় অংশীদার করা হয়েছে। সেজন্য উন্নয়নের অগ্রগতি নেই, আছে শুধু আস্ফালন ও কটুবাক্যের তীব্রতা। পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্রিজ, কালভার্ট, ফ্লাইওভার, সড়ক-মহাসড়ক, শেয়ার বাজার সবকিছুই লাগামহীন দুর্নীতির এক একটি মাইল ফলক।

তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালে সুইজারল্যান্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৫ সালেই বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশের ব্যাংকে জমা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা কার সেটা দেশবাসী জানে। কারণ এই সরকার অর্থপাচার রোধে তৎপরতা দেখায়নি। তবে কানাডায় বেগমপাড়া এবং মালেশিয়ায় সেকেন্ড হোমের মালিক কারা সেটিও দেশবাসী জানে। সুতরাং দেশের বাইরে খালেদা জিয়ার সম্পদের কাল্পনিক ও মনগড়া কাহিনী রচনা করে কোনো ফায়দা হবে না।

ফখরুল বলেন, জনগণের বদলে বন্দুকের ওপর ভরসার পাশাপাশি কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের ওপর আশ্রয় নিয়েছে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অশ্রাব্য, হিতাহিত কাণ্ডজ্ঞানহীন-বিবেচনাহীন, সভ্যতা-ভব্যতা ও সুরুচির ওপর হিংস্র আগ্রাসন।

সংসদে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কারও জানান ফখরুল।