জুরাইনে পাইপ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে গ্যাস

../news_img/58245 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: রাজধানীর জুরাইনে অসংখ্য লিকেজ গ্যাস পাইপ দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে জাতীয় সম্পদ গ্যাস। এতে একদিকে যেমন গ্যাসের অপচয় হচ্ছে। অপরদিকে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের।
 

এলাকাবাসী বলছেন, দেড় বছর ধরে গ্যাস লিকেজের এ ভয়াবহ অবস্থা চলে আসছে। স্থানীয় কাউন্সিলরসহ এলাকাবাসী তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে বারবার লিখিতভাবে জানালেও কোনো ফল হয়নি। এ নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। চরম গ্যাস সংকটে ভুগছে এ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। কিন্তু তা সত্ত্বেও এখানে গ্যাসের এই অপচয় ও ভয়াবহতা দেখার কেউ নেই।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এ ওয়ার্ডের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার পাইপে প্রায় কয়েকশ লিকেজ দিয়ে অনর্গল গ্যাস ব্যয়। এর মধ্যে পূর্ব জুরাইন হাজী খোরশেদ আলী সরদার রোডের হাজী আবদুল হক মোল্লা, আবদস সামাদ, এলাহী বক্স, হাফিজ উদ্দিন তালুকদার, নুরুল ইসলাম কোতয়ালের বাড়ি এবং মোহাম্মদ আলীর সিএনজি গ্যারেজ, করলা গার্মেন্টস, আনন্দ টেইলার্সের সামনে এমন লিকেজ দেখা যায়। এছাড়া জুরাইন বউবাজার, বড়ইতলা মাতবরবাজার সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়া পাইপে লিকেজ দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, দিনের চেয়ে রাতে গ্যাসের তীব্র চাপ থাকে। এ সময় গ্যাস বের হওয়ার বুদবুদ শব্দে এবং গ্যাসের গন্ধে ঘুমাতে পারেন না রাস্তার পাশের বাসিন্দারা। লিকেজ পাইপ দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের চুলায় গ্যাস সরবরাহ থাকে না। থাকলেও চুলা জ্বলে মিট মিট করে। ফলে রান্না করতে না পেরে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খেতে হয়।

গ্যাস সংযোগ দেয়ার সময়ের তুলনায় বর্তমানে লোকসংখ্যা ও বহুতল ভবনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৮০ শতাংশ। এছাড়া বাড়ি ও রাস্তা উঁচু করা হয়েছে ১০ থেকে ১২ ফুট। এতে গ্যাসের পাইপগুলো গভীরে চলে গেছে। পুরনো গ্যাস পাইপগুলো একদিকে সরু, অপরদিকে মরিচা ধরে ছিদ্র হয়ে গেছে। ফলে এখন অধিকাংশ বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে হয় না।

তবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ নূর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ওয়ার্ডের ২-৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গ্যাস পাইপ লিকেজ হয়ে গ্যাস বের হয়ে যাচ্ছে। এক মাস ধরে লিকেজ গ্যাস পাইপ পরিবর্তন করে নতুন পাইপ বসানোর কাজ চলছে। তবে ২ ইঞ্চি পাইপ বসানোর কারণে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ থেকেই যাবে।