বিশ্ব রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে তামিম

../news_img/58523mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::এই তো সেদিনের কথা। শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। তামিম ইকবালের ১২৭ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে খেলাটা জিতে নিল বাংলাদেশ। সিরিজে লিড। তামিমই ম্যাচসেরা। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার খেলা ১৭ ম্যাচের ১৬ ইনিংসের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। যেটি আবার লঙ্কানদের বিপক্ষে তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। ওখানে ১২৭ হলে মিরপুর শেরে বাংলায় শুক্রবার ১২৬ হতে পারে না? আর ওটা হলেই তো সাবেক গুরু চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বর্তমান দলের বিপক্ষের ম্যাচ দিয়েই ইনমাজাম-উল-হক, সনাথ জয়াসুরিয়ার মতো দুই গ্রেটকে ছাড়িয়ে একটি দুর্দান্ত রেকর্ডে এক নম্বরে উঠে যান ২৮ বছরের তামিম। হয় বিশ্ব রেকর্ড। ওয়ানডেতে এক ভেন্যুতে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড।

তামিম রেকর্ড পছন্দ করেন। মাথায় থাকে। এটাও নিশ্চয় আছে। ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজটা বাংলাদেশ শুরু করেছে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে। সেখানে ৮৪ রানের হার না মানা ইনিংস বাঁহাতি ড্যাশিং ওপেনারের। নিজেদের মধ্যে সিরিজের আগে খেলা ফর্ম ঝালাই ম্যাচেও সেঞ্চুরি করেছেন। টাচে আছেন খুব। তামিমভক্তদের সেটাই করছে আরো আশাবাদী।

বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম সেরা মারকুটে ওপেনার লঙ্কান জয়াসুরিয়া ১৯৯২ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত এক মাঠে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা নিজের দখলে নিয়ে বসে আছেন। পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ইনমাজাম ১৯৯৩ থেকে ২০০২ পর্যন্ত একটি মাঠে খেলে রেকর্ডটার এক নম্বর জায়গায় গিয়েছিলেন। পরে জয়াসুরিয়া তাকে টপকে গেছেন শীর্ষে। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ৭১ ম্যাচের ৭০ ইনিংসে ৩৮.৬৭ গড়ে ২৫১৪ রান করেছিলেন জয়াসুরিয়া। ৪টি সেঞ্চুরি ও ১৯টি ফিফটি ওই মাঠে। ইনজি শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৫৯ ম্যাচে ৫০.২৮ গড়ে ২৪৬৪ রান করেছিলেন। ওখানে তার সেঞ্চুরি ৪টি। আর ফিফটি ১৭টি।

তো এখন শুক্রবারের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭৬ রান করলেই ইনমাজামকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে দিয়ে তামিম দুইয়ে উঠে যাবেন। আর ১২৬ রান করলে ইনমাজামের সাথে জয়াসুরিয়াও নেমে যাবেন তামিমের নিচে। টাইগার ব্যাটসম্যান হয়ে যাবেন এক ভেন্যুতে ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান করার বিশ্ব রেকর্ডের মালিক। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে (২০০৭-২০১৮) ৭২ ম্যাচ খেলেছেন তামিম। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ওয়ানডে রানের মালিকের এই হোম অব ক্রিকেটে ৭১ ইনিংসে ২৩৮৯ রান। গড় ৩৪.৬২। সেঞ্চুরি ৫টি। ফিফটি ১৪টি। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করা দুই সেঞ্চুরিই লঙ্কার মাটিতে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৭ ম্যাচের ১৬ ইনিংসে ৩৪.৪৩ গড়ে ২ সেঞ্চুরিতে তামিমের রান ৫৫১। কিন্তু মিরপুরের শেরে বাংলায় খেলা ৫ ম্যাচে রান ১৪৭। স্কোরগুলো যথাক্রমে ৯, ১৮, ৪০, ২১ ও ৫৯। ফিফটি তো দেখাই যাচ্ছে মাত্র একটি। আর ক্যারিয়ারে ১৭৫ ম্যাচে ৩৪.৮২ গড়ে ৯ সেঞ্চুরি ৩৯ ফিফটিতে তামিম করেছেন ৫৮৫০ রান। সর্বোচ্চ ইনিংসটি ১৫৪ রানের। মিরপুরে খেলা সেঞ্চুরির ইনিংসগুলো হলো ১৩২, ১২৯, ১২৫, ১১৮ ও অপরাজিত ১১৬ রানের। সুতরাং, ঘরের মাঠে যখন একটা বিশ্ব রেকর্ডের হাতছানি এবং খেলোয়াড়ও খুব ফর্মে, তখন যে কোনো কিছু তো হতেই পারে। আর বাংলাদেশের যে এই ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ট্রফিটা জেতা চাই-ই চাই! তামিম তো সেখানে অনেক বড় ফ্যাক্টরই।