পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাই করল ছাত্রলীগ

../news_img/58296 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: মদ্যপানে মাতাল অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হেনস্থার দায়ে পুলিশের কাছে সোপর্দকৃত দুই আসামিকে ছিনতায়ের অভিযোগ ওঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল সিদ্দীকি আরাফাত তার কর্মী ইমতিয়াজ ও ইউসুফকে পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনতাই করে নেয় বলে জানা গেছে। রোববার বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মফিজ লেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসের মফিজ লেকে শেখ হাসিনা হলের তিন শিক্ষার্থী ঘুরতে যায়। এসময় মাদক সেবনে মাতাল হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ, ইংরেজী বিভাগেরএকই বর্ষের শিক্ষার্থী ইউসুফ ও বহিরাগত মাদকসেবী মোহাইমিনুল ইসলাম লামন লেকে বসে থাকা বিভিন্ন ছাত্রীদের উত্তক্ত করতে থাকে। পরে তাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হেনস্থা করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তোভোগীরা। পরে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানকে ফোনে আকুতি করে বলেন ‘স্যার আমাদেরকে বাঁচান’। বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিক প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

ঘটনাস্থল থেকে প্রক্টর হাতেনাতে আরাফাতের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী ইমতিয়াজ ও ইউসুফকে আটক করে। এসময় বহিরাগত লামন ঘটনাস্থল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীর টপকে পালিয়ে যায়। পরে প্রক্টর আনছার সদস্যদের সহযোগিতায় বহিরাগত মাদকসেবী লামনকে মাঠ থেকে আটক করে। পরে তাদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি।

এদিকে ঘটনা জানতে পেরে মন্দির ভাঙ্গার দায়ে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল সিদ্দীকি আরাফাত তার ৪০-৫০ জন সহযোগী নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তার দুই কর্মী ইমতিয়াজ ও ইউসুফকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয়।

এসময় ইবি থানার এসআই কমলেশ দাসের সাথে আরাফাত ও তার অনুসারীদের বাকবিতন্ডা হয়। একইসাথে আরাফাত তার নিজস্ব মটরসাইকেল দিয়ে লামনকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। এসময় পুলিশ লামনকে মোটরসাইকেল থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ইবি থানার এসআই কমলেশ দাস বলেন, আমি আটককৃত তিনজনকে গাড়িতে নিয়ে আসার সময় আরাফাতসহ ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী গাড়ি থেকে দুইজনকে নামিয়ে নেয়। অন্য একজন এখনো থানাতে আছে তার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে ছাত্রলীগের কোনো কর্মী যদি পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এবিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ছাত্রীদের ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধকারীদের কোন ছাড় হবে না।

এ বিষয়ে ফয়সাল সিদ্দীকি আরাফাত বলেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও আমার কর্মী। তাই আমি তাদের নামিয়ে নিয়েছি।

প্রসঙ্গত, মন্দির ভাঙার দায়ে ফয়সাল সিদ্দীকি আরাফাত বিগত দুই বছর ধরে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কৃত রয়েছেন।