গফরগাঁওয়ে প্রবেশপত্রের জন্য অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থীর রাতভর অপেক্ষা!

../news_img/58746mmm.jpg


মৃদুভাষণ ডেস্ক::নিয়ম অনুয়ারী পরীক্ষার এক সপ্তাহ পূর্বে প্রবেশপত্র ও রেজিস্টেশনকার্ড পরীক্ষার্থীরা হাতে পাওয়ার কথা থাকলেও গফরগাঁও উপজেলার রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র পায়নি। ফলে পরীক্ষার আগের দিন বুধবার দিবাগত রাতভর ওইসব পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পাবার আশায় গফরগাঁও থানা ও বিদ্যালয়ে দৌরঝাপ করে।

আতঙ্ক নিয়ে রাতভর দৌরঝাঁপ করায় পরীক্ষার কোন প্রস্ততি নিতে পারেনি তারা। আবার অনেক শিক্ষার্থী দুঃচিন্তা নিয়ে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় রাত কাটিয়েছেন। সন্তানরা শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কিনা সে দুঃচিন্তায় নির্ঘূম রাত কাটিয়েছেন অভিভাবকরাও।

জানা যায়, গফরগাঁওয়ের রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৬ জনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম ফিলাপ করায় তার বিদ্যালয় থেকে। ফরম ফিলাপ বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হয় ২ হাজার ৫০০ টাকা করে। কিন্তু উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৬ জন পরীক্ষার্থীসহ কোন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসেনি।

উথুরী গ্রামের মিম, জান্নাত, শামছুন্নাহার, স্বর্ণা, ধামাইল গ্রামের সজিব, হাজেরা ও ঝুমুর জানায়, উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন সুলতানা পপির মাধ্যমে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করি। কিন্তু আমরা কেউ পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাইনি। আমরা পরীক্ষা দিতে পারবো কিনা জানিনা। কোন শিক্ষককেও খোঁজে পাচ্ছিনা। সকলেরই মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে। আমরা পরীক্ষার্থীরা ইউএনওর কাছে গেলে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।

উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন সুলতানা পপির মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদের ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রতি বছরই ওই প্রধান শিক্ষক এই অপকর্মটা করে থাকেন। দেখি এইসব শিক্ষার্থীদের জন্য কি করা যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাঃ শামীম রহমান বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে পরীক্ষার আগের দিন রাতে প্রধান শিক্ষক প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ তার বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের হাতে লেখা বিহীন প্রবেশপত্র ধরিয়ে দেন। পরে এসব খালি প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র পূরন করে পিন্ট করার জন্য রাতভর বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে ঘুরে প্রবেশপত্র পূরণ করেন।

২০১৭ সালে পরীক্ষার দুই ঘণ্টা আগে প্রবেশপত্র হাতে পায় একই বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা। গত কয়েক বছর যাবত ওই প্রধান শিক্ষক এহেন অপকর্ম করে আসলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।