বড়লেখায় স-মিল মালিকের ডোবা থেকে অবৈধ সেগুন কাঠ উদ্ধার

../news_img/58437 mmm.jpg

লিটন শরীফ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল সমনবাগ বনবিট এলাকা থেকে অবাধে সরকারী সেগুন গাছ পাচার হচ্ছে। গত শুক্রবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সুজানগর ইউনিয়নের বড়থল গ্রামের সাইদ আহমদের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে পুলিশ ও জনতার সহায়তায় বনবিভাগ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সেগুন কাঠ উদ্ধার করেছে। তিনি স্থানীয় একটি স-মিলের মালিক। এর আগে একাধিকবার তার স-মিল থেকে অবৈধ সেগুন কাঠ উদ্ধার করা হলেও বনবিভাগ রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি।

এলাকাবাসী ও বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা রেঞ্জের আওতাধীন সমনবাগ বনবিট থেকে পাচারকারীরা কয়েকটি সেগুন গাছ কেটে সুজানগরের বড়থল গ্রামের সাইদ আহমদের নিকট বিক্রি করে। তিনি স্থানীয় একটি স-মিলের মালিক এবং বড়থল গ্রামের হাজী সালেহ আহমদের ছেলে। গত শুক্রবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাতে দুইটি পিকআপ ভ্যান ভর্তি লক্ষাধিক টাকার অবৈধ সেগুনকাঠ সাইদের বাড়িতে রাখা হলে স্থানীয় লোকজন তা টের পেয়ে বাড়ি ঘেরাও করে স্থানীয় বনবিভাগকে জানান। রাত ১০টার দিকে বনবিভাগের টহলবাহিনীর কর্মকর্তা শ্যামল রায়, সহযোগি রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে সাইদ আহমদের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকার ১৫ টুকরা অবৈধ সেগুন কাঠ উদ্ধার করেন। পরে সেগুলো জব্দ করে রেঞ্জ অফিসে জমা রাখা হয়। বনবিভাগ ও পুলিশের ধারণা অভিযানের খবর পেয়ে সুচতুর সাইদ অবৈধ কাঠগুলো বাড়ির ভেতর থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলে এবং কিছু কাঠ বাড়ির পাশের ডোবায় লুকিয়ে রাখায় পাচারকৃত সব কাঠ উদ্ধার করা যায়নি। অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ী ও সরকারী সেগুন বাগান লুটপাটকারী সাইদ আহমদের স-মিলের লাইসেন্স বাতিলের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এদিকে কাঠ উদ্ধারের ঘটনায় বন আইনের ৪১ ও ৪২ ধারায় সাইদ আহমদ ও কাঠ পাচারকারী চক্রের সদস্য দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের কাশেমনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালিকের ছেলে রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

বনবিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগি রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস গতকাল  শনিবার সন্ধ্যায় জানান, বড়থল গ্রামের সাইদ আহমদের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে ১৫ টুকরো অবৈধ সেগুনকাঠ উদ্ধার করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য অর্ধলক্ষ টাকা। এ ব্যাপারে বনআইনে সাইদসহ দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।