বন্ধ ছিল সিসি ক্যামেরা, ছুরিকাঘাতের ১৩ ক্ষত

../news_img/58441 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় হায়দার ডিজিটাল ডেন্টাল ক্লিনিকে রিসিপশনিস্ট লিজা আক্তার হত্যার কোনো ক্লু উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক ক্লিনিক মালিক নজরুল ইসলাম ভুট্টো ওরফে জুলফিকারকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্টে দেখা গেছে, লিজার পিঠে ১০টিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৩টি ছুরিকাঘাতের ক্ষত। অন্যদিকে লিজার স্বামীর দাবি- ক্লিনিকের ৮টি সিসি ক্যামেরাই ঘটনার সময় বন্ধ ছিল। যদিও থানা পুলিশ জানেই না ওই ক্লিনিকে সিসি ক্যামেরা আদৌ আছে কিনা!
 

লিজার স্বামী আরাফাত রহমান দাবি করেছেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ক্লিনিক মালিক নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা জড়িত। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্ত্রী লিজাকে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তিনি ফোনে যুগান্তরকে বলেন, আমার সন্দেহ ক্লিনিক মালিক নজরুল ইসলাম তার পরিচিত লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হয়তো তাকে (লিজাকে) কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। সাড়া না দেয়ায় এ হত্যা। তিনি আরও জানান, তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করে উপর্যুপরি ছুরি মারা হয়েছে। সে দৌড়ে যাওয়ার সময় সিঁড়িতে পড়ে যায়। সেখান থেকে বের হতে পারলে মালিক ফেঁসে যেত। তাই তাকে এজন্য মেরে ফেলেছে। তিনি আরও জানান, লিজা বোরকা পরে ডিউটি করত। তার বোরকার সামনের দিকের অংশ ছেঁড়া পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই আটক করা হয় ক্লিনিক মালিক নজরুল ইসলামকে। তিনি এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। ঘটনা তদন্তে পুলিশের বিভিন্ন শাখা কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাড্ডা জোনের এসি আশরাফুল করিম। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

লিজা ওই ক্লিনিকে রিসিপশনিস্ট হিসেবে ৪ মাস আগে যোগদান করেন। শুক্রবার দুপুরে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। ক্লিনিক মালিক দুপুর ২টা ১২ মিনিটে আরাফাত রহমানকে ফোনে স্ত্রী লিজা খুন হয়েছেন বলে জানান। এদিকে লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন লিজার আত্মীয়স্বজনরা। বরগুনা জেলার তালতলি উপজেলার পচাকোরালিয়া ইউনিয়নের গাব্বাড়িয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে।

সুরতহাল রিপোর্টে দেখা গেছে, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৩টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশের সুরতহালকারী বাড্ডা থানা পুলিশের এসআই আবদুল কাদের যুগান্তরকে বলেন, লাশের পিঠে ১০টি, হাতে ২টি ও বাম কানের নিচে ১টি ছুরিকাঘাত করা হয়। তিনি আরও বলেন, ভিকটিম ধর্ষণের শিকার হননি।

ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা হয় জানিয়ে আরাফাত রহমান বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম কি কর? ক্লিনিকে আর কেউ আছে কিনা? সে বলেছিল, বসে আছি। একা আছি। আমি জানতে চেয়েছিলাম দুপুরে খেয়েছ কিনা? সে জানিয়েছিল- খাইনি। এ সময় সে আমাকে বলেছিল শনিবার যেহেতু আমার অফ-ডে, ওই দিন ভালো কিছু রান্না করে খাব। যা খেতে মন চায় নিয়ে এসো।

আরাফাত রহমান আরও বলেন, ওই ক্লিনিকে ৮টি সিসি ক্যামেরা আছে। কিন্তু ঘটনার সময় সবক’টি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। এটি রহস্যজনক। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোগী আসবে ৪টার সময়, অথচ সকাল ১০টা থেকে কেন একটি মেয়েকে সেখানে বসিয়ে রাখা হল। আমার মনে হয় এটা পরিকল্পিত। তিনি জানান, লিজা দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার ভ্যানিটি ব্যাগ ও মোবাইল ফোনের খোঁজ মেলেনি। বাড্ডা থানার (ওসি) তদন্ত নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি যৌথভাবে এ হত্যার তদন্ত করছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বিভিন্ন ভবন থেকে সিসি টিভির ফুটেজ নেয়া হয়েছে। ঘটনার সময় ওই এলাকায় কাদের মুভমেন্ট ছিল- সেগুলো দেখা হচ্ছে।

শনিবার সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ছয়তলা ভবনটির দোতলায় হায়দার ডিজিটাল ডেন্টাল ক্লিনিক। ক্লিনিকটি পুলিশের পক্ষ থেকে তালা মেরে রাখা হয়েছে। সেখানে সিসি ক্যামেরা দেখা গেছে। কিন্তু ওসি নজরুল ইসলামের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই ক্লিনিকে সিসি ক্যামেরা আছে কিনা জানা নেই।

লিজার শ্বশুর মজিবুর রহমান জানান, তার ছেলে আরাফাত রহমানের সঙ্গে ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি লিজা আক্তারের বিয়ে হয়। সে বরগুনার তালতলী ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ১ম বর্ষের পরীক্ষায় লিজা এ প্লাস পেয়েছে।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী  বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো ডেভেলপমেন্ট নেই।’