মুমিনুল-লিটনে ম্যাচ বাঁচাল টাইগাররা

../news_img/58449 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: পঞ্চম দিনের শুরুতে উইকেট থেকে সহায়তা পাচ্ছিলেন শ্রীলংকার স্পিনাররা। বল টার্ন করার সঙ্গে বেশ বাউন্সও করছিল। সময়মতো বল ব্যাটে আসছিল না। এ পরিস্থিতিতে ম্যাচ বাঁচানোটাই ছিল বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে শতভাগ সফল হয়েছে টাইগাররা। জয়ের সমান ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা।
 

এর মূল কারিগর মুমিনুল হক ও লিটন দাস। দুজনের অনবদ্য ব্যাটিংয়েই তা সম্ভব হয়েছে।

৩ উইকেটে ৮১ রান নিয়ে অনেকটা চাপের মুখে পঞ্চম দিনে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। মুমিনুল ১৮ ও লিটন দাস শূন্য রান নিয়ে খেলা শুরু করেন। সেই চাপের মুখে সকালের কঠিন সময়টা লড়ে কাটিয়ে দেন তারা। এতে লড়াইয়ে ফিরে স্বাগতিকরা।

এরপর যা ঘটেছে তা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। চাপকে ফু দিয়ে উড়িয়ে দেন মুমিনুল-লিটন। খেলতে থাকেন ছন্দময় ক্রিকেট। দুজনই উইকেটের চারপাশে শটের পসরা সাজান। লংকান বোলারদের নির্বিষ প্রমাণ করে ছাড়েন তারা। ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেন মুমিনুল। এর আগে ক্যারিয়ারে তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন লিটন। তাদের ব্যাটে সওয়ার হয়ে এগিয়ে যায় বাংলাদেশও।

৫ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ রান করে ফেরেন মুমিনুল। এর আগে লিটনকে নিয়ে একাধিক রেকর্ড গড়েন তিনি। বাঁধেন ১৮০ রানের পার্টনারশিপ। যা বাংলাদেশের হয়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ।

সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অসামান্য কীর্তি গড়েন মুমিনুল। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি।

এ ইনিংস খেলার পথে আরেকটি রেকর্ড নিজের করে নেন পয়েট অব ডায়নামো। এক টেস্টে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের (২৮১) রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি। শ্রীলংকার বিপক্ষে চলমান টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন এ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।

এর আগে রেকর্ডটি ছিল বাংলাদেশ ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালের। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনা টেস্টে ২৩১ রান করেন তিনি।

মুমিনুলের পর সেঞ্চুরির হাতছানি ছিল লিটন দাসের সামনেও। তবে পারেননি তিনি। রঙ্গনা হেরাথের শিকার হয়ে ফেরেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। ফেরার আগে ৬ রানের জন্য ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ হয়ে থাকে তার জন্য। ১১ চারে ৯৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

মুমিনুল-লিটন ফিরলেও বিপদ হতে দেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন। ২৮ রানের জুটি গড়ে ধৈর্যের পরিচয় দেন তারা। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর ৩০৭/৫ হলে ড্র ঘোষণা করে শ্রীলংকা। মাহমুদউল্লাহ ২৮ ও মোসাদ্দেক ৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

লংকানদের হয়ে রঙ্গনা হেরাথ নেন ২ উইকেট। ১টি করে নেন দিলরুয়ান পেরেরা, লক্ষণ সান্দাকান ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা।

ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মুমিনুল হক।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১০০ ওভারে ৩০৭/৫ (তামিম ৪১, ইমরুল ১৯, মুমিনুল ১০৫, মুশফিক ২, লিটন ৯৪, মাহমুদউল্লাহ ২৮*, মোসাদ্দেক ৮*; হেরাথ ২/৮০, লাকমল ০/২৫, ধনঞ্জয়া ১/৪১, দিলরুয়ান ১/৭৪, সান্দাকান ১/৬৪, কুমারা ০/১৬, মেন্ডিস ০/২)

শ্রীলংকা ১ম ইনিংস: ৭১৩/৯, ইনিংস ঘোষণা

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫১৩/১০

ফল: ২ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ ড্র