সংঘাতের মধ্যে আদালতের পথে খালেদা, আমাদের নেতাকর্মীরা কিছু করেনি: ফখরুল

../news_img/58825 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: রায় শুনতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর আটকে দেয়া নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়নি বলে দাবি করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলালাম আলমগীরসহ বিএনপির নেতারা। তাদের অভিযোগ, সরকারের লোকেরাই এই কাজ করেছে। গাড়িবহরে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী ছিলেন, তারা সুশৃঙ্খলভাবেই ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে রায় শুনতে রওয়ানা দেন খালেদা জিয়া। তিনি আদালতে যেতে মগবাজার উড়াল সড়ক ব্যবহার না করে নিচের সড়ক ধরে এগিয়ে যান। আর চারপাশ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা গাড়িবহরে যুক্ত হয়ে চলার গতি কমিয়ে দেন।

দুই দিন আগে পুলিশ আজ থেকে রাজধানীতে কোনো ধরনের মিছিল-সমাবেশ বা জমায়েত নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার গাড়িবহর হঠাৎ করে অন্য একটি সড়কে ঢুকে যাওয়ার পর নেতাকর্মীরা ছুটে এলে অপ্রস্তুত হয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তারা নিজেদেরকে সামলে নিয়ে জড়ো হয়।

আর কিছুক্ষণ পর মগবাজার মোড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। বিএনপির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে পুলিশের দিকে, আর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে জবাব দেয়।

এর মধ্যে গাড়িবহর ধীর গতিতে এগিয়ে যেতে থাকে কাকরাইল মোড় হয়ে মৎস ভবনের দিকে। কাকরাইল মোড় এলাকাতেও পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।

এই সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবীর খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানী প্রমুখ।

বেলা পৌনে একটার দিকে মগবাজারে সংঘর্ষ শুরুর পর পুলিশের একটি দল বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে নেতাদের ডেকে দিতে বলেন।

এ সময় শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানী, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন নিচে নেমে আসেন। তখন একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাদেরকে বলেন, ‘মগবাজার এলাকায় ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। আপনারা এখান থেকে নির্দেশ দিয়ে এখনই বন্ধ করুন। নতুবা আমরা অ্যাকশনে যাব।’

এ্যানী এবং খোকন- তখন বলতে থাকেন, ‘আমাদের নেত্রী ওনার বহর নিয়ে শান্তশিষ্ট ভাবেই যাচ্ছেন, এখানে আমরা কোনো ধরনের ঘটনা ঘটাইনি। এখানে অন্য কেউ ঘটাতে পারে ‘

এ্যানী বলেন, ‘আমরা টিভিতেও লাইভ দেখেছি, এই ধরনের কোনো ঘটটা ঘটেনি।’

এরপর এই তিনজন নেতা কার্যালয়ের ফটক খুলে গাড়িতে করে বের হয়ে যান। মিনিট পাঁচেক পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাসসহ কয়েকজন নেতা বের কন কার্যালয় থেকে।এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটানো হয়নি। আদালতের ওপর সম্মান রেখে আমাদের নেত্রী গাড়িবহর নিয়ে সুশৃঙঙ্খলভাবে যাচ্ছিলেন। সরকারি লোকরাই পাথর নিক্ষেপ করেছে আমাদের ওপর।’

 ফখরুল কাকরাইল মোড় পর্যন্ত হেঁটে যান। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কর্মীদেরকে আটকের চেষ্টা করে পুলিশ। তবে তারা চলে যান। আর ফখরুল কাকরাইল মোড় পার হয়ে গাড়িতে উঠেন। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের প্রিজন ভ্যান ভাঙচুর করে বিএনপির আটক দুইজন নেতাকে ছিনিয়ে নেন বিএনপির কর্মীরা। তাৎক্ষণিকভাবে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় রুহুল কবির রিজভী একে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া নেতা-কর্মীদের প্রতিরোধ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে পরদিন সংবাদ সম্মেলন করে ফখরুল দাবি করেন, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা অনুপ্রবেশকারী। তাদের কাউকে তিনি চিনতে পারছেন না।