রায়ের প্রতিবাদে বিএনপির মিছিল, আটক ৪

../news_img/58844 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক ::  বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে দলের কর্মীরা। আজ শুক্রবার রাজধানীতে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলটি নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়।

এদিকে কার্যালয়ের কাছে স্কাউট ভবনের সামনে থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিক্ষোভ-মিছিলের নেতৃত্ব দেন। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট দিয়ে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন, ফকিরাপুল পানির ট্যাংক ঘুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আসে। মিছিলে আরও ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ফজলুল হক মিলন, সালাউদ্দীন আহমেদ, আবদুস সালাম, নেওয়াজ আলী, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, শফিউল বারী বাবু, মোরতাজুল করিম, এস এম জিলানী, গোলাম মওলা, তানভীর আহমেদ, খান রবিউল ইসলাম প্রমুখ। দলীয় কার্যালয়ে আগে থেকেই দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কয়েকজন নেতা অবস্থান করছিলেন। মিছিলটি কার্যালয়ের সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান করে শেষ হয়।

বিএনপি কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ কাউকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) এস এম শিবলী নোমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিছিল থেকে কোনো সমস্যা হয়নি বলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়নি। আটকের বিষয়ে এখনো কিছু বলতে পারছি না। বিষয়টা জেনে নিয়ে বলতে হবে।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫–এ রায় ঘোষণা করেন। বয়স ও সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যদিও একই অভিযোগে তাঁর বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচজনের ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১২ দশমিক ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার আসে, যা বাংলাদেশি টাকায় তৎকালীন ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ১৯৯১ সালের ৯ জুন থেকে ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো এতিমখানায় না দিয়ে অস্তিত্ববিহীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন। অথচ কোনো নীতিমালা তিনি তৈরি করেননি, করেননি কোনো জবাবদিহির ব্যবস্থাও। অথচ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অস্তিত্ববিহীন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে পাঠান। পরে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন, যার জন্য তিনি দায়ী।