রাতারাতি কোটিপতি এক গ্রামের মানুষ!

../news_img/58845 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: অরুণাচল প্রদেশ ও ভুটান সীমান্তের কাছে প্রত্যন্ত গ্রাম বোমজা। গতকাল বৃহস্পতিবার কোটিপতি বনে গেছে ওই গ্রামের সব মানুষ।

দিল্লির কাছে সোনপতের রাধাধনা গ্রাম আগে ‘কোটিপতিদের গ্রাম’ বলে পরিচিত ছিল। কিন্তু সেখানে ধনীদের পাশাপাশি আছে প্রায় ২০০ ভূমিহীন দলিত পরিবার। বোমজা গ্রামে কোনো বৈষম্য নেই। সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে ভারতের গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, বোমজার শতভাগ পরিবারই এখন কোটিপতি।

অরুণাচলের তাওয়াং জেলায় অবস্থিত বোমজা। চীন সীমান্তের কাছে তাওয়াংয়ে সেনা ঘাঁটি মজবুত করার পরিকল্পনা সেনাবাহিনীর অনেক দিনের। ‘তাওয়াং গ্যারিসন’ তৈরির জন্য অনেক দিন ধরেই জমি চাইছিল সেনাবাহিনী। কিন্তু তাওয়াং চু নদীর পাশে, ভুটান সীমান্তের দিক থেকে তৃতীয় গ্রাম বোমজার বাসিন্দারা জমি দিতে রাজি হচ্ছিলেন না।

কারণ বোমজার বাসিন্দাদের কাছে পাহাড়, জমি ‘পবিত্র সম্পদ’। তবে প্রশাসন তাদের বোঝাতে শুরু করে, পাহাড়ের মালিকানা ধরে রেখে মনে শান্তি থাকলেও আয় হচ্ছে না। তাই প্রায় ২০০ একর জমি দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে দিয়ে দেওয়াই ভালো। ভালো দাম পাওয়া যাবে।

তাওয়াংয়ের জেলা শাসক সাং ফুন্টসক বলেন, প্রায় ছয় বছর আলাপ-আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছে বোমজাবাসী। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ মঞ্জুর করেছেন।

গতকাল বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী তথা তাওয়াংয়ের ভূমিপুত্র পেমা খান্ডু নিজের কেন্দ্র মুক্তোয় বোমজা গ্রামের ৩১টি পরিবারের হাতে মোট ৪০ কোটি ৮০ লাখ ৩৮ হাজার ৪০০ রুপির চেক তুলে দেন। পরে গ্রামের ২৯টি পরিবারের মধ্যে সমান ১ কোটি ৯ লাখ ৩ হাজার ৮১৩ রুপির চেক প্রদান করা হয়। একটি পরিবার পেয়েছে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮৬ রুপি। সবচেয়ে বেশি জমির মালিক পেয়েছেন ৬ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার ৯২৫ রুপি। মূলত পাহাড়ে চাষাবাদ করাই এদের পেশা।

সেনাবাহিনীর ১৯০ মাউন্টেন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার এম পি সিংহ জানান, ওই জমিতে তাওয়াং গ্যারিসনের ‘কি লোকেশন প্ল্যান ইউনিট’ তৈরি হবে।