‘সাহসী’ বাংলাদেশের সামর্থ্যের অভাব

../news_img/58847 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস তখনো দেড় শ পেরোয়নি। ৪ উইকেট হারিয়েই সফরকারীদের লিড আড়াই শ ছুঁয়েছে তখন। আলোচনাটা শুরু হলো তখনই, ইনিংস ঘোষণা করছে না কেন দলটা! এ উইকেটে আড়াই শ রান নেওয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। আর প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ তো প্রথম ইনিংসে ১১০ রান করতেই গুটিয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে জেতার জন্য যথেষ্ট রান তো হয়েই গেছে!
তখনই মনে পড়ল, টেস্টের পর আবার টি-টোয়েন্টি সিরিজও আছে শ্রীলঙ্কার। ফলে ১৯ তারিখের আগে বাংলাদেশ ছাড়ার উপায় নেই তাদের। তাই দুই দিনে ম্যাচ শেষ করে লাভও নেই। এর চেয়ে আরেকটু ব্যাটিং করে লিডটা বাড়িয়ে নেওয়াটাই নিরাপদ। আর টেস্ট ক্রিকেটের গর্বিত অনিশ্চয়তার কথা তো মাথায় রাখতেই হচ্ছে। যদি বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ায় চতুর্থ ইনিংসে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের যদি সুমতি হয়!

প্রথম ইনিংসে যে প্রদর্শনী দেখা গিয়েছে, সুমতি শব্দটা ব্যবহার করতেই হলো। প্রথম তিন উইকেটের পতন নিয়ে আর বাক্য ব্যয় না করাই ভালো। আজ তো সে দুঃস্বপ্নকেও অতটা খারাপ ঠেকছিল না। ৩ রানে শেষ ৫ উইকেট হারানো এক দলের অতটা বিলাসিতাও শোভা পায়ও না। টেস্টের আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্পিনিং উইকেট বানিয়ে সাহসের পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু সে সাহসের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সামর্থ্য কি ব্যাটসম্যানরা দেখাতে পেরেছেন? বোলারদের দেওয়া উচ্ছ্বাসের
 মুহূর্তগুলো যে ভুলেই যাওয়ার দশা ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়!

সবই যে হতাশার খবর তা কিন্তু নয়। মোস্তাফিজুর রহমান যে চমৎকার বল করেছেন, সেটা না বলাটা অবিচার করা হবে। দানুশকা গুনাতিলকাকে যেভাবে বারবার বিভ্রান্ত করে তারপর এলবিডব্লু করেছেন সেটা পরিপূর্ণ এক পেসার হয়ে ওঠার কথা বলে। দিলরুয়ান পেরেরা ও ধনঞ্জয়াকে পরপর দুই বলে আউট করে হ্যাটট্রিকের আশা জাগিয়েছিলেন। ছোট্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো আরও একবার হ্যাটট্রিকটা হাত থেকে ফসকে গেল তাঁর। সে হতাশা কাটিয়ে পরের বলেই দলকে উইকেট উপহার দিচ্ছিলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু ক্যাচটা যে গেল স্লিপে!

স্লিপে ইমরুল কায়েস দাঁড়ান কিংবা সাব্বির রহমান, সেখানে বল যাওয়া মানেই যেন বোলারের মাথায় হাত দেওয়া। মোস্তাফিজের বলটা লাকমলের ব্যাট ছুঁয়ে গিয়ে গেল সাব্বিরের কাছে। কিন্তু ভালো উচ্চতায় পেয়েও সে বলটা হাতে নিতে পারলেন না সাব্বির। এ নিয়ে হা-হুতাশ করার আগেই টিভিতে আজ সকালের অনুশীলন দেখানো হলো। স্লিপ ফিল্ডিংয়ের অনুশীলনে বারবার ব্যর্থ হওয়া সাব্বির ম্যাচের এমন চাপে ক্যাচ ফেলতেই পারেন!

১৭৮ রানেই নবম উইকেট হারাতে পারত যে শ্রীলঙ্কা, সে দল দিনটা ঠিক দুই শ রানে শেষ করল। শ্রীলঙ্কার লিড তিন শর মাঝে আটকানোর সূক্ষ্মতম সুযোগটাও তাই বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে গেল। জয়ের সম্ভাবনাটাও কি নয়?

কারণ, মিরপুরে চতুর্থ ইনিংসে তিন শ ছাড়ানো ইনিংস আছেই মাত্র একটি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৮ সালে ৫২০ রানের লক্ষ্যে ৪১৩ রানের অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সে শ্রীলঙ্কা দল ও এ শ্রীলঙ্কা দলের যেমন আকাশ-পাতাল তফাৎ, এর চেয়ে বেশি তফাৎ দুই টেস্টের উইকেটে।

তবু ক্রিকেটের গৌরবময় অনিশ্চয়তা বলে কথা। ডুবন্ত মানুষ তো খড়কুটো আঁকড়েও বাঁচতে চায়, নাকি?