রক্ষা পেল চার শিশু

../news_img/58856 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: তিন জেলায় গতকাল শুক্রবার চারটি শিশু বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরায় দুটি এবং নেত্রকোনা ও রাজবাড়ীতে একটি করে শিশু রয়েছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি এই বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করে।

সাতক্ষীরা জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি ও পুলিশের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পায় দুটি শিশু। পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর (১৪) সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নের আরেক শিশুর (১৬)। বিকেল চারটার দিকে বরের বাড়ি গিয়ে এ বিয়ে বন্ধ করা হয়।

জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির প্রশাসনিক প্রধান সাকিবুর রহমান বলেন, তাঁরা গোপনে ওই বিয়ের খবর পান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কর্মকর্তাকে খোঁজ নিতে অনুরোধ জানানো হয়। পরে তিনি ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য এবং জেলা পরিষদের সদস্য শাহনেওয়াজ পারভিন বরের বাড়িতে উপস্থিত হন এবং বিয়ে বন্ধ করেন।

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সিংধা ইউনিয়নে ঝরে পড়া এক শিক্ষার্থীর (১৩) বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে। দুপুরে বিয়ে বন্ধের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন শিশুটির লেখাপড়ার খরচসহ ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। ইউএনও উভয় পক্ষের পরিবারকে ডেকে শিশুটি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নেন।

এ নিয়ে গত ১৫ দিনে নেত্রকোনার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ১০টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ছাড়া দুই সপ্তাহ আগে ওই উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের একটি শিশুর (১৪) বাল্যবিবাহ বন্ধ করে লেখাপড়া ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন ফরিদা ইয়াসমিন।

ইউএনও ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘মেয়েটি গ্রামের বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে আর লেখাপড়া চালাতে পারেনি। পরিবারটি দরিদ্র। আমি শনিবার তাকে নিয়ে বিদ্যালয়ে ভর্তি ও লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেব। এ ছাড়া তার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছি।’

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় বিয়ের আয়োজন চলছিল অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৪)। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন গোয়ালন্দের ইউএনও মো. আবু নাসার উদ্দিন। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নেন কনের অভিভাবকের কাছ থেকে।

এদিকে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার সদর ইউনিয়নে ১৩ বছরের একটি শিশুর বিয়ে হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে পুলিশ নিয়ে ওই মেয়ের বাড়িতে গেলেও বিয়ে আটকানো যায়নি। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট থানায় এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে।