নাবালিকা যৌনকর্মী ভাড়া : অক্সফাম থেকে বরখাস্ত রোনাল্ড বাংলাদেশে চাকরি করে গেলেন

../news_img/58873 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অক্সফামের হাইতির কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিলেন রোনাল্ড ভন হাওয়ারমেরিন। ভূমিকম্প বিধ্বস্ত দেশটিতে কাজ করার সময় নাবালিকা যৌনকর্মী ভাড়া করায় চাকরি হারাতে হয়েছিল তাকে।
 

সেই রোনাল্ড বাংলাদেশে দুই বছর চাকরি করে গেছেন ফরাসি দাতব্য সংস্থা অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গারের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে। -খবর দা সান অনলাইন।

রোনাল্ডের বিরুদ্ধে হাইতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মী ভাড়া করার অভিযোগ ওঠার পর তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া আরও চারজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঘটনাটি ২০১০ সালের। হাইতির রাজধানী পোর্ট-অউ-প্রিন্সে যৌন উৎসবে মেতেছিলেন অক্সফার্মকর্মীরা। তা ভিডিও করে রাখা হয়েছিল। এ সময় ওই যৌনকর্মীরা অক্সফামের টিশার্ট পরা ছিলেন। যৌনকর্মীদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন ১৪-১৬ বছরের মধ্যে।

হাইতিতে ১৮ বছর বয়সের আগে কোনো নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করার বিধান নেই। দেশটিতে যৌন ব্যবসা পুরোপুরি অবৈধ।

অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক অবৈধ হলেও অক্সফামের নির্বাহীরা পুলিশ ডাকেনি। সংস্থাটির কর্মী ট্রিশিয়া ও-রোক বলেন, এ ধরনের আচরণ খুবই বিরক্তিকর। এতে আমরা খুবই হতাশ হয়েছিলাম।

৬৪ বছর বয়সী রোনাল্ড ভন হাইতিতে অক্সফামের ভাড়া করা বাড়িতে যৌনকর্মী নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

এই একই ব্যক্তি পরে অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গারের হয়ে বাংলাদেশে কাজ করে গেছেন। তবে ফরাসি সংস্থাটি জানায়, অক্সফামের কাছ থেকে সুপারিশ পাওয়ার পরই তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এমনকি তার পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে অক্সফাম আমাদের সতর্ক করেনি। তাদের কাছ থেকে ২০১৫ সালে ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার পরই তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে অক্সফাম বলছে, ওই সুপারিশ ভুয়া হতে পারে।

২০১০ সালে হাইতিতে ভূমিকম্পে দুই লাখ ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছিলেন তিন লাখের মতো। বাড়িঘর হারান প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। দেশটিতে ত্রাণ বিতরণ করছে অক্সফাম।

তবে টাইম ম্যাগাজিন বলছে, অক্সফাম হাইতিতে তাদের কর্মীদের ওই কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।

কর্মীদের বিরুদ্ধে যৌনকর্মী ভাড়া, পর্নোগ্রাফি ডাউনলোড, নিপীড়ন ও ভয় দেখিয়ে ইচ্ছামতো কাজ করতে বাধ্য করার অভিযোগে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করেছে অক্সফাম। এর পরই চাকরি হারাতে হয়েছে ভনকে।

ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ অক্সফামকে অর্থায়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে। গত বছর সংস্থাটিকে তিন কোটি ২০ লাখ পাউন্ড দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।