কাতারে অভ্যুত্থান ঘটাতে লন্ডনে সম্মেলন, টাকা গুনলেন ব্রিটিশ এমপি

../news_img/58885 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: আরব দেশ কাতারে অভ্যুত্থানের লক্ষ্যে লন্ডনে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আয়োজনে সহযোগিতার বিনিময়ে এক ব্রিটিশ এমপি বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
 

কাতারবিরোধী এ সম্মেলন আয়োজনে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এতে অর্থায়ন করেছে।

অভিযুক্ত ব্রিটিশ এমপি হলেন ডেনিয়েল কোয়াজোনস্কি। রক্ষণশীল এ রাজনীতিক ২০ হাজার ৭০০ ডলার গ্রহণ করেন বলে বাজফিডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে স্থানীয় সময় রোববার কোয়াজোনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কেবল কাতার বিরোধীদের সম্পর্কে জানতে ওই সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া তার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। খবর আলজাজিরা ও ইন্ডিপেন্ডেন্টের।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আড়াই লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত কাতারকে একঘরে করার পর গত সেপ্টেম্বরে ‘কাতার, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্মেলন’ আয়োজন করা হয়েছিল।

সন্ত্রাসবাদ সমর্থন ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগে সৌদি আরব, আমিরাত, বাহরাইন, মিসর কাতারকে একঘরে করে রাখতে ছোট্ট দেশটির সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে।

দোহা অবশ্য সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। লন্ডন সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল- কাতার সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে কিনা তা নিয়ে।

খালিদ আল-হাইল নামে ২৯ বছর বয়সী এক কাতারি নাগরিক সম্মেলনের আয়োজক ছিলেন। কাতার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা খালিদ উপসাগরীয় দেশটিতে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাতারে অভ্যুত্থান ঘটাতে সহায়তা করতেই ওই সমাগম হয়েছিল। সৌদি আরব ও আমিরাতে এতে অর্থায়ন করেছে।

সৌদি রাজতন্ত্রের প্রতি অনবদ্য সমর্থন রয়েছে কোয়াজনস্কির। এ জন্য তাকে সৌদি আরবের সম্মানিত সদস্য হিসেবে ডাকা হয়। তিনি খালিদের স্ত্রী তাতিয়ানা গিসকার সংশ্লিষ্ট একটি কোম্পানির কাছ থেকে ১০ হাজার ৩৭০ ডলার নেয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে কোনো সম্মেলন কিংবা কী উদ্দেশ্যে তিনি ওই অর্থ নিয়েছেন, সেই তথ্য জানা যায়নি। তবে বাজফিডকে তিনি বলেন, সৌদি কিংবা আমিরাত ওই সম্মেলনে অর্থ দিয়েছিল বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।

২০১১ সালে কোয়াজনস্কির বিয়ে ভেঙে গেলে দুই বছর পর তিনি ঘোষণা করেন, তিনি একজন নতুন সঙ্গী পেয়েছেন, যিনি পুরুষ।

সৌদি আরবে সমকামিতা নিষিদ্ধ। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে টুইটার ব্যবহার করে সমকামিতার আয়োজন করায় ২৪ বছর বযসী এক সৌদি যুবককে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।