নবীগঞ্জে বিরল রোগে আক্রান্ত রিংকী বাচতে চায়,

../news_img/58903 mmm.jpg

উত্তম কুমার পাল হিমেল, নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ) থেকে ::  শিশু রিংকী বাঁচতে চায়। উঠে দাঁড়াতে চায়, যেতে চায় আগের মতোই স্কুলে, খেলতে চায় বন্ধুদের সাথে। কিন্তু গত ৪ মাস যাবত এক অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় পড়ে রয়েছে বিছানায়। জীর্ণকায় শরীরটা দিনে দিনে মরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাকে। হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে রিংকী দাশ নামের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে নিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন তার বাবা ও মা। রিংকীকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গাঁ (পাঠলী) গ্রামের দিন মজুর অর্জুন দাশের কন্যা নবীগঞ্জ জে.কে সরকারী মডেল হাই স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী রিংকী দাশ (১২) প্রায় ৪ মাস পূর্বে হঠাৎ জ¦রে আক্রান্ত হয়। তখন প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও জ¦র না কমে হাত পায়ের বিভিন্ন স্থানের চামড়া উঠে গিয়ে দেখা দেয় অজানা এক রোগ। এ অবস্থায় বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা শুরু করা হয়। এতে কোন উন্নতি না হওয়ায় গত বছরের শেষের দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা দিয়ে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় শিশু রিংকী ঠিক মতো ঘুমাতেও পারেনা। অসহ্য যন্ত্রণায় দিন-রাত ছটফট করতে থাকে। ছোট শিশুর এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবারটি। এই শিশুর চিকিৎসা করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মেয়েটির মা ঝলক দাশ। এতো অভাব-অনটনের মাঝে শিশু রিংকীর চিকিৎসার ব্যয়বহুল খরচ যোগানো মা বাবার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই রোগে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার কোন চিকিৎসা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা চিকিৎসকরা। বিরল এই রোগ থেকে মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান রিংকীর মা ঝলক দাশ ও বাবা অর্জুন দাশ। গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিনে তাদের বাড়ীতে গেলে বিরল রোগে আক্রান্ত স্কুল ছাত্রী রিংকী আস্তে আস্তে কান্নাজরিত কণ্ঠে এ প্রতিবেদককে জানায়, ‘আমি বাচতে চাই, স্কুলে যেতে চাই, খেলাধুলা করতে চাই।’ সমাজের বিত্তবানদের উদ্দেশ্যে রিংকী বলে ‘আমাকে বাঁচাতে সাহায্য করুন, আমি সুস্থ হয়ে চাকরি করে অথবা ভিক্ষা করে আপনাদের ঋণ পরিশোধ করবো।’

এনিয়ে রিংকীদের নিকটাত্মীয় পাপলু দাশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোষ্ট করেন। পোষ্টটি রীতিমত ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এবং অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন।
রিংকীর মা ঝলক দাশ আরো জানান, তার তিন মেয়ের মধ্যে রিংকী সবার ছোট। বিনা চিকিৎসায় রিংকী বর্তমানে বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা সহযোগিতার হাত বাড়ালেই কেবল শিশুটি সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। তিনি আরও জানান, সাহায্যের জন্যে বিকাশ নম্বর হচ্ছে (০১৭৩১-৩৯১০২০)। আর যোগাযোগের জন্যে (০১৭১৭-৬১৬২৫১ পাপলু)।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইফতেখার হোসেন চৌধুরীর সাথে কথা বলালে তিনি জানান, ওই রোগটা ডাক্তারী ভাষায় কানেকটিভ টিস্যু রোগ, এর কারণ জানা যায়নি। তবে বাচ্চাদের বেশি হয়, এটি কোন বংশগত রোগ নয়। এই বিরল রোগ থেকে সম্পূর্ন সুস্থ্য হওয়ার কোন চিকিৎসা নেই বললেও তিনি আরো বলেন, তার উৎসর্গ নিরাময়ের অনেক চিকিৎসা আছে এর জন্য বি.এস.এম.এম ইউতে চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞ নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার প্রয়োজন বলে এই চিকিৎসক এ প্রতিবেদককে জানান।