ধূসর হয়ে যাচ্ছে সবুজ বেরাইদ

../news_img/58958 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: নিচু জায়গা, জলাভূমি ও কৃষিজমি ভরাট করা হচ্ছে বালু দিয়ে। গড়ে উঠছে দালানকোঠা। যেন চলছে দালানকোঠা তৈরির প্রতিযোগিতা। দূষণের শিকার বালু নদের পানি কালো রং ধারণ করেছে। এই চিত্র বেরাইদ এলাকার। এভাবে দ্রুত নগরায়ণের কারণে নষ্ট হতে চলেছে বেরাইদের প্রাকৃতিক পরিবেশ।

 

স্থানীয় লোকজন বলেন, ১০ বছর আগেও এলাকার মানুষ নদী, খাল ও জলাভূমি থেকে মাছ শিকার করে নিজেদের চাহিদা মেটাতেন। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে এলাকার বাইরে গিয়ে বিক্রিও করতেন। কাউকে মাছ কিনে খেতে হয়নি। কিন্তু জলাভূমি ভরাটের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে মাছের আবাসস্থল। দূষণের শিকার বালু নদে এখন আর তেমন মাছ মেলে না। শুধু তাই নয়,বেরাইদে সবুজ প্রকৃতিও তেমন একটা চোখে পড়ে না। চাষাবাদ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বেরাইদবাসী দ্রুত নগরায়ণের কুফল ভোগ করছে। তেমন কোনো নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে না।

 

বেরাইদ ইউনিয়নের বড় বেরাইদের পূর্বপাড়া, ভূঁইয়াপাড়া, ঋষিপাড়া, আরদ্দাপাড়া, ছোট বেরাইদ, ডগরদিয়া, আশকারটেক, চান্দারটেক, পাঁচদিরটেক, হারারদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ মোড়লপাড়া, আগারপাড়া, চটকিপাড়া, চিনাদিপাড়া, নিগুর ও ফকিরখালী (আংশিক) নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন ৪২ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে।

 

নতুন এই ওয়ার্ডের আয়তন প্রায় ৬ দশমিক ২১ বর্গকিলোমিটার। ওয়ার্ডটিতে প্রায় ১৭ হাজার ২৪৪ জন মানুষের বসবাস। এর মধ্যে নারী ৮ হাজার ৭৪০ এবং পুরুষ ৯ হাজার ২০৪ জন। ভোটার আছেন ১০ হাজার ১৪৯ জন।

 

বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তথ্য অনুযায়ী, এলাকার ২০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে অর্ধেকই পাকা। বাকি অর্ধেকের কিছু আধাপাকা। বাকিটা কাঁচা। বর্ষায় এলাকার অনেক মানুষের যোগাযোগের ভরসা নৌকা। কয়েকটি সড়ক ছাড়া অন্য সড়কগুলো সরু। একসঙ্গে দুটি সিএনজি-লেগুনা ঠিকমতো চলতে পারে না। কোনো কোনো রাস্তায় একত্রে দুটি রিকশা চলতেও কষ্ট হয়।

 

কিছু রাস্তার পাশে পানিনিষ্কাশনের নালা আছে। তবে সেগুলো পুরোনো ও সরু। এই নালার সঙ্গে বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্যের নালা সংযুক্ত করে দিয়েছেন অনেকে। ১৭ হাজারের বেশি জনসংখ্যার বেরাইদে বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা নেই। যে যাঁর সুবিধামতো যত্রতত্র ফেলছেন বাসাবাড়ির ময়লা। সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পরে পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়।

 

বেরাইদে এখনো ওয়াসার পানির সংযোগ দেওয়া হয়নি। কিছু মহল্লায় গ্যাস-সংযোগ আছে।

 

কয়েক বছর আগেও ফকিরখালীর বাসিন্দারা মেঠোপথে হেঁটে চলাচল করতেন। বর্ষায় নৌকাই ছিল তাঁদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। এখন ফকিরখালী খালের ওপর সেতু হয়েছে।

 

অন্যদিকে ফকিরখালীর পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা এখনো কাঁচা। বর্ষায় রাস্তা নষ্ট হয়, ভেঙে যায়। ফকিরখালী গ্রামের দুই অংশের সংযোগকারী 

খালের ওপর সেতু নির্মাণ করা হলেও নির্মাণ করা হয়নি সংযোগ সড়ক।

 

ফকিরখালী গ্রামের এক অংশ পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) যুক্ত নাসিরাবাদ ইউনিয়নে। বাকি অংশ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) যুক্ত বেরাইদ ইউনিয়নে।

 

ফকিরখালীর বাসিন্দা মো. রিপন বলেন, ‘আমাদের গ্রাম দুটি সিটি করপোরেশনের অধীনে।কিন্তু আমরা একই সিটি করপোরেশনে থাকতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা চরমভাবে অবহেলিত। গ্রামের সব রাস্তা কাঁচা। বর্ষাকালে কাদামাখা রাস্তায় হেঁটে চলাচল করতে হয়।’

 

সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্বপাড়া, ভূঁইয়াপাড়া, ঋষিপাড়া, আরদ্দাপাড়ার রাস্তাগুলো অনেক সরু। মোটরসাইকেলে কেউ গেলেও পথচারীদের দেয়াল ঘেঁষে সরে দাঁড়াতে হয়।

 

এলাকার লোকজন বলেন, যেভাবে স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে, তাতে অলিগলির রাস্তা প্রশস্ত করার তেমন একটা সুযোগ নেই।

 

ভূঁইয়াপাড়ার বাসিন্দা মো. আরিফ হোসেন বলেন, এলাকায় পয়োনালা নির্মাণ করা প্রয়োজন। বর্ষায় রাস্তায় পানি উঠে যায়। পয়োবর্জ্য মাড়িয়ে এলাকাবাসীকে চলাচল করতে হয়।

 

বেরাইদের সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে কোনো জনপ্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ট করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। প্রথম আলো