নাইকো দুর্নীতি মামলা এবং হাসিনা-খালেদা, সত্যটা জানুন

../news_img/59103 mrini.jpg

মোহাম্মদ এ আরাফাত : কিছু বিএনপি-জামায়াতপন্থি জ্ঞানপাপী খালেদা জিয়ার এতিমের টাকা চুরির মামলায় নিম্ন আদালতে সাজা হয়ে যাওয়ার পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তথাকথিত ১৫ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি মামলার হিসাব চাইছে।

চুরি করে ধরা খেয়ে ওরা এখন সুকৌশলে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টায় নেমেছে। ওদের উদ্দেশ্য, সংখ্যার খেলায় মানুষকে ধোঁকা দেওয়া। খেয়াল করে দেখুন, ১৫ হাজার কোটি টাকার মামলার মধ্যে নাইকো মামলাটিই ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার। এই মামলা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া উভয়ের বিরুদ্ধেই ছিল এবং মামলা এখনো চলছে। কিন্তু পার্থক্যটা কোথায়?

পার্থক্যটা হলো, শেখ হাসিনার সরকার ১৯৯৬-২০০১ সালে নাইকোর সঙ্গে দরকষাকষি করেছে, শেষ পর্যন্ত চুক্তি করেনি। কারণ নাইকোর একটি শর্ত বাংলাদেশের স্বার্থের বিপক্ষে যাচ্ছিল। বাংলাদেশ বিরোধী শর্ত মেনে না নেওয়ায় তখন নাইকোর সঙ্গে কোনো চুক্তিই সই হয়নি। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেই নাইকোর সঙ্গে তাদের সব শর্ত মেনে চুক্তি সই করে ফেলে।

২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর নাইকো-বাপেক্স জেভিএ সই হয়। পরবর্তী সময়ে কানাডার আদালতে প্রমাণিত হয় যে নাইকো বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার আমলে ঘুষ দিয়ে কাজ পায়। হাওয়া ভবনের গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ঘুষ নেন এবং খালেদা জিয়ার তৎকালীন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনকে ১ লাখ ৯০ হাজার কানাডীয় ডলার দামের একটি গাড়ি ও বিদেশ সফরের জন্য পাঁচ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে নাইকোর বিরুদ্ধে।

দুর্নীতির মাধ্যমে নাইকোর সঙ্গে বাপেক্সের চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়ায় জড়িত হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদসহ ২৬ জনের নাম আন্তর্জাতিক আদালতে (ইকসিড) উপস্থাপন করা হয়েছে। কাজেই নাইকো-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলা কোথায়— এটি খোঁজ নিতে গেলে খালেদা জিয়ার ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলাটি খোঁজ করুন।

শেখ হাসিনা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে নাইকোর সঙ্গে কোনো চুক্তিই করেননি। কাজেই তার বিরুদ্ধে নাইকো-সংক্রান্ত ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার মামলার হিসাব খুবই সহজ— শেখ হাসিনা চুক্তিই করেননি, কাজেই মামলা খারিজ। আর খালেদা জিয়া দেশবিরোধী চুক্তি করেছিলেন দুর্নীতির মাধ্যমে— কাজেই খালেদা জিয়া এবার শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও ফেঁসে যাবেন।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক।