বগুড়া থেকে ঢাকাগামী কোচ চলাচল বন্ধ

../news_img/59235 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ঢাকা ও বগুড়ার পরিবহন মালিকদের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে সোমবার রাতে হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বগুড়া-ঢাকা রুটের কোচ চলাচল।

মঙ্গলবার দিনভর প্রায় ৩০০ কোচ চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন, যাত্রী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। কবে নাগাদ চলাচল স্বাভাবিক হবে সে সম্পর্কে স্থানীয় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টায় পর্যন্ত মালিক-শ্রমিকদের বৈঠক চলছিল। সেখানে সমঝোতা না হলে উত্তরাঞ্চলের সব জেলার সঙ্গে ঢাকার কোচ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বগুড়ার ‘শাহ্ ফতেহ আলী’ পরিবহনের ২০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ বগুড়া থেকে ঢাকার মহাখালী রুটে চলাচল করে। অন্যদিকে ঢাকার পরিবহন মালিকদেরও বেশ কয়েকটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত চলাচল করে। সব মিলিয়ে অর্ধশত এসি বাস চলাচল করে।

সম্প্রতি ঢাকার পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে ব্যবসায়িক ক্ষতির অজুহাতে বগুড়ার শাহ্ ফতেহ্ আলী পরিবহনের চলাচলকারী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসগুলো ঢাকা-বগুড়া রুটে না চালানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বগুড়ার মালিকপক্ষ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে ঢাকার পরিবহন মালিকরা অসন্তুষ্ট হন।

তারা সোমবার বিকালে প্রথমে মহাখালী বাস টার্মিনালে শাহ্ ফতেহ্্ আলী পরিবহনের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেন। এরপর তারা ঢাকার গাবতলীতেও শাহ্ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার বন্ধ করে দেন। এতে ওই পরিবহনের বাসগুলো ঢাকায় আটকে পড়ে। এ খবর বগুড়ায় পৌঁছার পর বগুড়ার পরিবহন মালিক শ্রমিকরা তাৎক্ষণিকভাবে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী সব কোচ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মোহন জানান, সোমবার বগুড়ায় রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভায় আলোচনার পর নওগাঁ-বগুড়া রুটে আবারও বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে ঢাকার মহাখালী থেকে যদি বগুড়া রুটে এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) কোচ চলাচল করতে না দেয়া হয় তাহলে বগুড়া থেকে সব কোচ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।’ বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের যুগ্ম আহ্বায়ক ও শাহ্ ফতেহ্ আলী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, সভা চলছে। যদি আমাদের কোচগুলো চলাচল করতে দেয়া না হয় তাহলে এ অঞ্চলের মালিক-শ্রমিকরা পুরো উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী কোচ চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।

বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আলহাজ আব্দুল লতিফ মণ্ডল জানান, বগুড়া থেকে প্রায় ৩০০ কোচ চলাচল বন্ধ রয়েছে।