শেখ হাসিনার দুই মেয়াদে ভারতের সঙ্গে ১০৮ চুক্তি

../news_img/59383 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দুই মেয়াদে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ১০৮টি চুক্তি সই হয়েছে। তবে বাংলাদেশে বহুল প্রত্যাশিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সই হয়নি। এ চুক্তি কবে নাগাদ সই হবে, তার কোনো সময়সীমাও দিতে পারছে না দিল্লি। তবে ঢাকায় ভারতীয় কূটনীতিকরা বলছেন, তিস্তা চুক্তি সই করার ব্যাপারে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে। এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করছে আওয়ামী লীগ। তার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শিগগিরই ভারত সফরে যাচ্ছে। এ সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ঢাকায় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গেও বিদ্যমান জোরদার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। তার অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স সামিটে’ যোগ দিতে বৃহস্পতিবার ভারত যাচ্ছেন। এছাড়া শিগগিরই ভারতের নতুন পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সেতু ভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। আধ ঘণ্টার বেশি চলা এ বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের ভারত সফর সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল পাঁচ দিনের সফরে শিগগিরই ভারত যাচ্ছে। দিল্লিতে সোলারের ওপর একটি সামিট থাকায় সফরের তারিখে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে আবার না-ও হতে পারে। তিনি বলেন, এটা পার্টি টু পার্টি আমন্ত্রণ। বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি আমাদের ওই দেশে সফরের আমন্ত্রণ করেছেন। তাদের অনেকের সঙ্গে সরকারিভাবে আবার পার্টিগতভাবে সাক্ষাৎ হবে। এর মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজসহ ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে দেখা হবে।

সেতুমন্ত্রী জানান, সফরটি এ মাসেও হতে পারে, আবার আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেও হতে পারে। তবে ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে সিডিউল জানতে পারব। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সবচেয়ে ভালো সময় যাচ্ছে। আগে সন্দেহ ছিল, সেই দেয়াল ভেঙে গেছে। সীমান্ত চুক্তির পর বিরাট চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছি। শুধু সরকারি লেভেলে নয়, পার্টি টু পার্টি পর্যায়ে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আসন্ন সফর করবে আওয়ামী লীগ।

এ সফরে আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য কী জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সিডিউল এখনও আমাদের কাছে আসেনি, একটা খসড়া আছে। কার কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করাবেন, এটা তাদের (ভারত) ব্যাপার। পার্টি লেভেলে ও সরকারি লেভেলে দু’ভাবে সাক্ষাৎ হবে। এখন ভারতের বিরোধী দলের কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে কি না, এটা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।

ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলায় আওয়ামী লীগের হাত আছে- মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড। বিএনপি এটাই বলবে। বাংলাদেশের মানুষ এটা বিশ্বাস করবে না। এতে বরং বিএনপির ভোট আরও কমবে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ভারত সফর সম্পর্কে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মেঘালয়, গোহাটি হয়ে দিল্লি যাবেন। দিল্লিতে সোলারের ওপর একটি সামিটে অংশ নেবেন। এর আগে তিনি মেঘালয়ের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবেন। হাইকমিশনার বলেন, রাষ্ট্রপতির এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে অভিহিত করে সমর্থন দিয়েছিল ভারত। ওই নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আগামী নির্বাচনেও ভারত আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেবে কিনা জানতে চাইলে ঢাকায় ভারতের একটি কূটনৈতিক সূত্র দাবি করে, আওয়ামী লীগ কংগ্রেসের খুব ঘনিষ্ঠ ছিল। ২০১২ সালে খালেদা জিয়া ভারত সফরে গেলে তাকে উপযুক্ত সম্মানই দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ সব দলের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখে ভারত। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সমর্থন করে ভারত। ভারত ভবিষ্যতেও সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে।

ঢাকায় ভারতের একটি কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই মেয়াদে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্থলসীমান্ত চুক্তি সই, সমুদ্রসীমা চিহ্নিতকরণ, নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ব্যাপক সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য তিনগুণ বেড়ে সাত দশমিক ৫২ বিলিয়নে উন্নীত হওয়া, সীমান্তহাট স্থাপন, ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি, ৮০০ কোটি ডলারের ঋণ এবং বছরে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ১৪ লাখে উন্নীত হয়েছে। রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভারত সম্পৃক্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৬০টি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ রয়েছে।-যুগান্তর