বাড়ীর গেটে ব্যাংকার প্রেমিকা, পালিয়ে গেলেন প্রেমিক!

../news_img/59577mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::নীলফামারীর সৈয়দপুরে ডাঃ রাজুর বাড়ীতে স্ত্রীর মর্যাদার দাবীতে অবস্থান করছে ব্যাংকার জরিনা তাসলিম সিমি। গত ২৩ তারিখ রাত ৯ টা থেকে পরের দিন (বিকাল ৫টা) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই স্থানে অবস্থান করছে। সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া সাদ্দাম মোড় এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে ডাঃ কামাল উদ্দিন রাজুর সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বাঙ্গালীপুর দারুল উলুম মাদ্রাসা এলাকার একরামুল হকের মেয়ে জরিনা তাসলিম সিমির সাথে।

দীর্ঘ কয়েক বছর সম্পর্কের পর উভয়ের মতামতের ভিত্তিতে গত ২৭ জানুয়ারী ২০১৮ইং তারিখে মুসলিম শরিয়া মোতাবেক রংপুর পর্যটন হোটেল কর্পোরেশনে বিবাহ রেজিষ্ট্রি করে। বিয়ের দেড় মাস পর সিমির উপর নির্যাতন শুরু করে রাজু। সিমি ঢাকা ডার্চ-বাংলা ব্যাংকে চাকুরী করেন। এর মধ্যে রাজু সিমিকে তার বাড়িতে নিয়ে আসার কথা ছিল ২৩ মার্চ শুক্রবারে। কিন্তু বিকালে রাজু ফোন বন্ধ করে সিমির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে। সিমি উপায় না পেয়ে রাতে সৈয়দপুর এসে রাজুর বাসার গেটে অবস্থান নেয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে শত শত উৎসুক লোক উপস্থিত হন ঘটনাস্থলে। ফলে সিমি ওই গেটেই অবস্থান করে রাত কাটান।

এলাকাবাসী সিমিকে ওই বাসায় বার বার প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। কারণ গেটের ভিতর থেকে লক করা ছিল। ওই বাসায় রাজু অবস্থান করলেও কয়েকজন জানান রাজু পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেছে। এদিকে খবর পেয়ে সিমির বাবা, মা, বোন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। এলাকাবাসী সিমির পক্ষে অবস্থান নিলেও কতিপয় ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের এক কথিত নেতা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

কথা হয় সিমির সাথে তিনি জানান, মুসলিম শরিয়া মোতাবেক আমার বিয়ে হয়েছে। বর্তমানে রাজু আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। আমি আমার স্ত্রীর মর্যাদা চাই। দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই বাসা ত্যাগ করবো না। তা না হলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিমি ওই বাসার গেটে অবস্থান করছে। অপরদিকে ডাঃ রাজু এর আগেও নাটোর সিংড়া উপজেলা এ রকম ঘটনা ঘটিয়েছে। একজন চিকিৎসকের এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইতিপূর্বে ঐ চিকিৎসক স্থানীয় ডক্টরস ক্লিনিকে নারী কর্মীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা ঘটিয়েছিল বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহজাহান পাশা জানান, ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি। মেয়ের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।