একসময় মিথ্যা কথা বলার প্রয়োজন হবে না: অর্থমন্ত্রী

../news_img/59850 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: দেশে অভাব কমে আসায় ভিক্ষুকের সংখ্যা কমে গেছে দাবি করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এখনও যারা ভিক্ষাবৃত্তিতে আছে তারা পুরোপুরি পেশাদার, তাদের বদলানো যাবে না। তারপরও ভবিষ্যতে দেশে যাতে ভিক্ষুক না থাকে সেই চেষ্টা সরকার করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দুর্নীতিবিরোধী সপ্তাহ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে দুদকের ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে শ্রেষ্ঠ কমিটির সদস্যদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার ভবিষ্যতে দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যখন মানুষ নিজে থেকেই জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল গ্রহণ করবে। তখন মিথ্যা কথা বলার প্রয়োজন হবে না, অভাবে কারও মৃত্যু হবে না, মানুষকে ভিক্ষুক হতে হবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন দেখেন বাংলাদেশে ভিক্ষুক বেশ কম। যারা আছে তাদের বেশির ভাগই প্রফেশনাল ভিক্ষুক এবং তাদের কিছু করা যায় না।

বর্তমানে দেশে ছয় লাখের মতো ভিক্ষুক রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে তথ্য দেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, তাদের কোনোমতেই ভিক্ষাবৃত্তির বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। যতই আমরা সাহায্য করি না কেন, তারা আবার ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরে যায়। কিছুদিন হয়তো কোথাও বসানো হলো, একটা ঘরবাড়ি দেয়া হলো, এর কিছুদিন পর আসার সেই ভিক্ষায় ফিরে যায়।

কিছু লোক সব সময় ভিক্ষা করবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেটা থাকবে। কিন্তু প্রয়োজনে ভিক্ষা, সেটা যাতে না থাকে সেই ব্যবস্থা আপনাদের সরকার, শেখ হাসিনার সরকার করে রাখছে।

এখন অভাবে কেউ মারা যাচ্ছে এমন চিত্র নেই দাবি করেন অর্থমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় আসতে পারলে দেশে ভিক্ষাবৃত্তি আর থাকবে না।

তিনি বলেন- আমার শৈশব, কৈশোর এমনকি যৌবনেও দেখেছি, বাগেরহাটে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় মানুষের না খেয়ে মৃত্যু খুব স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। এখন কোথাও না খেয়ে মারা যায় না। আমার মনে হয় বাংলাদেশে এ রকম মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

মুহিতের বিশ্বাস, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন ‘শুদ্ধাচার কৌশল’ অনুসরণ করবে, তখন দুর্নীতির দায়ে শাস্তির প্রয়োজনও কমে আসবে। তখনও এন্টি করাপশন কমিশনের প্রয়োজন হবে, কারণ শুদ্ধাচারের প্রচার তখনও চালাতে হবে। কিন্তু শাস্তি দেয়া তখন প্রধান লক্ষ্য হবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির মামলা এখন সংখ্যা কমে গেছে এবং অধিকাংশ মামলায় শাস্তি হচ্ছে। তবে তাতে দুর্নীতি কমেছে কিনা সেই বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা তিনি তার বক্তব্যে দেননি।

মুহ্তি বলেন, এখন দুদকের মামলায় ৭০ ভাগ শাস্তি পায়। এটাই হবে ভবিষ্যৎ। তখন এন্টি করাপশন কমিশন ওয়াচ ডগ হিসেবে থাকবে। তারা লোকজনকে নীতিকথা শোনাবে। দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে- এমন কথা ৮ বা ১০ বছর পরে আর বলা যাবে না।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) জাফর ইকবালসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।