নবীগঞ্জে নার্স ও আয়ার অপ-চিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু

../news_img/map nabigonj.jpg

উত্তম কুমার পাল হিমেল,নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :: নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ও আয়ার  ভুল চিকিৎসায় স্কুল শিক্ষিকা প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলার সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে  স্থানীয় পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশের পর ‘টক অব দ্যা টাউন’ এ পরিনত হয় নবীগঞ্জ। ঘটনাটি তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী তুলেছেন সচেতন মহল। মর্মান্তক এ ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে একটি মহল দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বলেও জানা গেছে। এদিকে, অপ-চিকিৎসায় শিক্ষিকা মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষক সমিতি। অপর দিকে, দৈনিক হবিগঞ্জ সময় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে আয়া ও নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিকভাবে তদন্ত করছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের  ভারপ্রাপ্ত টিএইচও ডাঃ আব্দুস সামাদ।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রোকনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিকিক্ষা ৬ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তানের জননী সুফলা রাণী দাশ (৩৩) এর প্রসবের ব্যথা শুরু হলে তাদের বাসার প্রতিবেশি নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া নমিতা রানী আচার্য্যর পরামর্শ মতে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রসূতির সব ধরণের পরীা-নিরীক্ষা করে ডেলিভারীর কার্যক্রম শুরু করেন ওই হাসপাতালের আয়া নমিতা, সিনিয়র স্টাফ নার্স আরতি ও চন্দনা দে। বিষেশজ্ঞ কোন চিকিৎসক ছাড়াই তারা তিন জনের সমন্বয়ে শুরু করেন ওই প্রসূতির ডেলিভারীর কাজ। এ সময় প্রসব ব্যথায় বেকুল প্রসূতির সুফলা অসহ্য হয়ে ছটফট ও হাউ মাউ করে কান্নাকাটি করলে তারা তাকে শান্তনার স্থলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি প্রসূতির গলা শুকিয়ে ওষ্টগত হওয়ার ফলে তাদের কাছে পানি চাইলে তারা কোন কর্ণপাত করেননি বরং ডেলিভারীর কাজ অসমাপ্ত রেখে হাসপাতালের অন্য রোগীদের পাশে গিয়ে সময় দেন। এক পর্যায়ে হাসপাতালের দায়ীত্বরত চিকিৎসক চম্পক কিশোর সাহা সুমন এসে পরীা নীরিার পর প্রসূতির অবস্থ স্বাভাবিক রয়েছে বলে মাকে শান্তনা দেন এবং এ কথা বলে তিনি জরুরী বিভাগে চলে যান। এরই মধ্যে প্রসূতির গর্ভের সন্তান অর্ধেক ভূমিষ্টের পথে। কিন্তু আয়া ও নার্সরা প্রসূতির সন্তানকে কোন ভাবে উদ্ধার করতে না পেরে ‘কেচি দিয়ে কেটে’ নবজাতককে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। যার ফলে প্রসূতির অতিরিক্ত রক্ত রণ হয়। এরই মধ্যে সুফলার মৃত নবজাতক উদ্ধার করে তারা। তার অবস্থার বেগতিক দেখে দীর্ঘ প্রায় ৩ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর দায়ভার এড়াতে কৌশলে তারা সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পথিমধ্যে আউশকান্দি সংলগ্ন স্থানে পৌছলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন প্রসূতি সুফলা রাণী দাশ।


এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন সুচিন্ত্য চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন এবং তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও জানান তিনি।

আর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ভারপ্রাপ্ত  টিএইচও ডাঃ আব্দুস সামাদ জানান,  স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে আয়া ও নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রাথমিক ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও তদন্তে প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। বিশ্বস্থ্য সুত্রে খোজ নিয়ে জানাযায়,নবীগঞ্জ হাসপাতালের আয়া নমিতা রানী আচার্য্যসহ অন্যান্য আয়ারা তাদের বাসায় চেম্বার খোলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অসংখ্য অবৈধ গর্ভপাত ঘটিয়ে ও অন্যান্য অবৈধ চিকিৎসা করে আঙ্গল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। 

এদিকে, নবীগঞ্জ হাসপাতালের নার্স ও আয়ার ভুল চিকিৎসায় শিক্ষিকা সুফলার  অপমৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও হাতুড়ে দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মুল শাস্তির দাবী জানান বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি নারায়ন রায়,সাধারন সম্পাদক উত্তম কুমার পাল হিমেলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ সংবাদ পত্রে প্রেরিত এক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা হলেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামীম আহমেদ চৌধুরী, সিনিয়র সহ সভাপতি কৃপেশ চন্দ্র দাশ, সহ সভাপতি সেলিনা বেগম, শাহিনুর আক্তার চৌধুরী, মোঃ ছুরুক মিয়া, সাধারন সম্পাদক মোঃ গোলাম রব্বানী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ রুবেল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর বখত, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পলাশ রতন দাশ।