কাশ্মীরে সেনা অভিযান বন্ধে রাস্তায় হাজারো মানুষ, গুলিতে নিহত ৪

../news_img/59920 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে সেনা অভিযান বন্ধের দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছে কয়েক হাজার গ্রামবাসী।

এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করলে চার বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।

রোববার সোফিয়ান জেলার কাচডোরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

গ্রামটিতে ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের বন্দুকযুদ্ধে ১৩ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ৩ সেনা নিহত হয়েছে। চলতি বছরে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা।

জানা গেছে, বেসামরিক লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও ছররা গুলি ব্যবহার করেছে।

স্থানীয় অধিবাসীরা বলেন,তাদের প্রতিবাদের মুখে অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

২৭ বছর বয়সী কলেজছাত্র নুমান আহমাদ মারিক বলেন, কাশ্মীরের একজন লোক বেঁচে থাকলেও আমরা বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে যাব।

নুমান নিজেও সেনাবাহিনীর গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

কাচোরা গ্রামের প্রতিবাদী যুবক ইমতিয়াজ আহমেদের ভাষায়, ভারতীয় সেনবাহিনী ১০ জনকে হত্যা করলে নতুন করে ২০ জন এসে বিদ্রোহে যোগ দেবে।

তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত ভারতীয় দখল থেকে আমাদের ভূমিকে মুক্ত করতে না পারছি, ততদিন এ লড়াই চলবে।

রাজ্য পুলিশের পরিচালক শেস পল ভেইদ বলেন, শনিবার রাতে সেনাবাহিনী জানতে পারে যে বিদ্রোহীরা দ্রাগাদ গ্রামে গোপনে আশ্রয় নিয়েছে।সেখান থেকে শীর্ষ নেতাসহ সাত বিদ্রোহীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।তাদের সবাই বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

ভেইদ বলেন,বিদ্রোহীরা যে বাড়িটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন,সেই বাড়ির মালিকও নিহত হয়েছেন।

শ্রীনগর থেকে দক্ষিণে ৬০ কিলোমিটার দূরে অনন্তনাগ জেলার দিয়ালগাম গ্রামে আরেক বিদ্রোহী নিহত ও একজনকে জীবিত ধরা হয়েছে।

শেস পল ভেইদ আরও বলেন, গত বছর আমরা ২১৩ বিদ্রোহীকে হত্যা করেছি। যেটা সংখ্যার হিসেবে গত সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল একে ভাট বলেন, এটি আমাদের জন্য বড় সফলতা। আমাদের বাহিনী একটি বিশেষ দিন পার করেছে।

এদিকে সহিংসতা এড়াতে কাশ্মীরের স্কুল ও কলেজ সোমবার বন্ধ ঘোষণা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের চলাফেরায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দক্ষিণ কাশ্মীরের ট্রেন চলাচল স্থগিত ও পাঁচ জেলায় ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মানুষ ও যানচলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।