ওসমানীনগরে অপমানের প্রতিশোধ নিতে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা

../news_img/osmani nogor mri.jpg

জুবেল আহমদ সেকেল, ওসমানীনগর থেকে :: সিলেটের ওসমানীনগরে মা ও ছেলে খুনের ঘটনায় ১০দিরে মধ্যেই হত্যাকান্ডের ক্লু উদঘাটন সহ হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত তিন ঘাতককে গ্রেফতার করেছে ওসমানীনগর থানা পুলিশ। অপমানের প্রতিশোধ নিতে ধর্ষণের পর চায়ের সাথে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধ করে দিপু মালাকার(৩৬) ও তার ছোট ছেলে বিকাশ মালাকার(৮)কে হত্যার কথা  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের নিকট স্বীকার করে তিন ঘাতক। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাবল মার্ডারের সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে ওসমানীনগর থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, উপজেলার গেয়ালাবাজার ইউপির গদিয়াচর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে শাহ নজরুল ইসলাম(২৭) একই গ্রামের মৃত আব্দুর কালামের ছেলে জয়নাল মিয়া(২৯) ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউপির গলমুকাপন গ্রামের জাবেদ আলীর ছেলে জকরুল মিয়া(২২)। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ গ্রেফতারকৃত তিনজনকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য  সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রিটে মো. নজরুল ইসলামের আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

আদালতের বরাত দিয়ে আসামীদেও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি জানিয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা মা ছেলের হত্যার সাথে জড়িত ৩জনকে গ্রেফতার ও হত্যাকান্ডের ক্লু উদঘাটনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত দিপু মালাকারের সাথে দীর্ঘদিনের সখ্যতা ছিল ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার কালিজুরি রশিদ চেয়ারম্যানের বাড়ি গ্রামের আবুল ওরফে হাবুল মিয়ার ছেলে সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার ইউপির গদিয়াচর গ্রামের লেবু মিয়ার ভাড়াটিয়া রিয়াজ মিয়া(১৮) সাথে। সখ্যতার একপর্যায়ে ২০১৬ সালে এনজিও আশা থেকে  ১৫ হাজার টাকা ঋণ উত্তেলন করে একটি রিকশা ক্রয় করে রিয়াজকে দেন দিপু মালকার। হত্যাকান্ডের প্রায় একমাস পূর্বে ঋণের টাকা পরিশোধের বিষয় নিয়ে রিয়াজের সাথে দিপু মালাকাররের ঝগড়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়াজ মিয়া প্রতিশোধ নিতে দিপু মালাকারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘাতকদলের প্রধান রিয়াজ উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউপির গদিয়াচর গ্রামের শাহ নজরুল ইসলাম, জয়নাল মিয়া ও ইউপি সদস্য বেলাল মিয়ার টমেটো বাগানের শ্রমিক গলমুকাপন গ্রামের জকরুল মিয়াকে সংগ্রহ করে। ১৭ মার্চ দিনগত রাতে রিয়াজ মিয়া দিপু মালাকার ও তার ছেলে বিকাশ মালাকারকে রিকশাযোগে গদিয়াচর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে দিপু মালাকারের সাথে রিয়াজসহ তার অন্য তিন সহযোগী শারীরিক কাজে লিপ্ত হয়। এর পর রিয়াজের এক সহযোগী উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউপির গদিয়াচর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে শাহ নজরুল ইসলাম(২৭) অধিক পরিমান ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে একটি ফ্লাক্সে করে চা এনে মা ছেলেকে পান করানো হয়। চা পানের বেশ কিছুক্ষণ পর দিপু মালাকার ও তার ছেলে বিকাশ মালাকার ঘুমিয়ে পড়লে তাদেরকে ঘাতকরা গদিয়াচর গ্রামের পূর্বদিকের হাওরে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় দিপু মালাকারের গলায় কাপড় দিয়ে ও বিকাশকে গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর কচুরীপানার নিচে লাশ গুম করে । মা ছেলের লাশ দ্রুত পচনের জন্য ৪ ঘাতক পর দিন ১৮ মার্চ দিনগত  রাতে লবনমিশ্রিত পানি লাশ দুটির উপর দিয়ে আসে বলে স্বীকারোক্তি দেয় গ্রেফতারকৃত তিন ঘাতক। লাশ উদ্ধারের পর থেকে হত্যাকান্ডের মূল নায়ক রিয়াজ আত্মোগোপনে চলে যায়।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আসামীদের জবানবন্দির কার্যক্রম চলছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ দুপুরে উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউপির গদিয়াচর গ্রামের পূর্বের হাওর থেকে পচাঁ গন্ধ বের হবার বিষয়টি ওসমানীনগর থানা পুলিশকে জানায় স্থানীয় এলাকাবাসী। পুলিশ হাওরে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে অজ্ঞাতনাম এক মহিলা ও ছেলের ক্ষতবিক্ষত গলিত লাশ উদ্ধার করে। ২৪ মার্চ রাতে নিহত দিপু মালাকারের ছোট বোন পারুল মালাকার লাশ সনাক্ত করেন। ২৬ মার্চ দিপু মালাকারের একমাত্র ছেলে বিজয় মালাকার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা (মামলা নং-১০) দায়ের করেন।