প্রশ্নফাঁস: ছিদ্র ‘শনাক্ত’ করেছে বিশেষজ্ঞ কমিটি

../news_img/59967 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র তৈরি এবং বিতরণ ব্যবস্থায় নানা দুর্বলতা খুঁজে বের করেছে প্রশ্ন ফাঁসের কারণ জানতে হাইকোর্টের করে দেয়া তদন্ত কমিটি। তথ্যপ্রযুক্তিবিদের নেতৃত্বে করা এই কমিটি সুপারিশ চূড়ান্ত করে তা সরকারকে দেয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

কমিটির প্রধান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘আমরা তদন্ত করেছি। বর্তমান যে সিস্টেমে প্রশ্নপত্র তৈরি হয় এবং বিতরণ হয় সেখানে অনেকগুলো ছিদ্র থাকে। সেগুলো আমাদের তদন্তে উঠে এসেছে।’

চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া না গেলেও চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে চলা এসএসসির প্রায় প্রতিটি বিষয়েই নৈর্ব্যত্তিক বা এমসিকিউ এর প্রশ্ন আগেভাগেই এসেছে সামাজিক মাধ্যমে।

কেবল চলতি বছরেই নয়, গত কয়েক বছর ধরেই তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ এবং প্রশ্ন ফাঁসের ঘঠনা ঘটেছে সমানতালে। কিন্তু এই প্রবণতা ঠেকাতে সরকার চলতি এইচএসসি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

আর এসএসসি পরীক্ষা চলার সময় একটি রিট আবেদনের পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি  করে দেয় হাইকোর্ট।

তখন বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদের নেতৃত্বে প্রশাসনিক কমিটি এবং ঢাকা জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে বিচারিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুই কমিটিরই সদস্য সংখ্যা  পাঁচজন করে।

প্রশ্ন ফাঁসের কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিরোধের সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয় এই দুই কমিটিকে।

এর মধ্যে বিচারিক কমিটি কতটুকু কাজ করলো, সে তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনিক কমিটির প্রধান কায়কোবাদ জানিয়েছেন, তারা তাদের অনুসন্ধান শেষ করে এসেছেন, শিগগির প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

কায়কোবাদ বলেন, এই প্রতিবেদনে প্রশ্ন ফাঁসের সম্ভাব্য কারণ যেমন তারা চিহ্নিত করেছেন, তেমনি এই অপকর্ম ঠেকাতে কী কী করা যায়, সে বিষয়ে সুপারিশও থাকবে।

প্রশ্ন ফাঁসের কারণ এবং সমাধানের সুপারিশের বিষয়ে বিস্তারিত বলতে অবশ্য রাজি হননি কমিটি প্রধান। বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে না। এটি আমরা জমা দিলে পরে আপনারা জানতে পারবেন।’।

অবশ্য প্রশ্ন প্রণয়ন ও বিতরণে কিছু ত্রুটির কথা জানিয়েছেন ড. কায়কোবাদ। বলেন, ‘এই পুরো কাজে ২০০ থেকে ২৫০ জন মানুষ যুক্ত থাকে। এত মানুষ যুক্ত থাকলে কীভাবে প্রশ্নফাঁস রোধ করবেন। এই পদ্ধতিতে কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁস বন্ধ করা সম্ভব না।’

‘নতুন পদ্ধতি অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে। সে বিষয়টি আমরা আমাদের সুপারিশে তুলে ধরেছি।’

প্রতিবেদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়ের কমিটিও

এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে। প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সে কমিটিও। 

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ  জানিয়েছেন,  এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সংক্রান্ত্র যাচাই-বাছাই কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আমরা সেটিকে পর্যালোচনা করছি। এর সঙ্গে যাদের জড়িত হওয়ার তথ্যপ্রমাণ মিলেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলমান আছে।’

জানতে চাইলে শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন এই কমিটির সুপারিশের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্টটি পর্যালোচনা চলছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। সবকিছু চূড়ান্ত করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির প্রধান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর স্বার্থ বিবেচনা করেই সুপারিশ দেয়া হয়েছে। এটি এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখবে।’-ঢাকাটাইমস