এক বেপরোয়া বলিউড সুপারস্টার সালমান খান

../news_img/59995 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: দুই দশক আগে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি পাওয়া সালমান খান বিভিন্ন সময় নানারকম বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের যেন শেষ নেই। শুধু বিরল প্রজাতির প্রাণী শিকারই নয়, ২০০২-এ মুম্বাইয়ে গাড়ি দুর্ঘটনায় গৃহহীন চারজনকে আহত ও একজনকে হত্যার অভিযোগেও অভিযুক্ত হয়েছিলেন সালমান। -খবর বিবিসি অনলাইনের।

সাবেক প্রেমিকাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু এর পরও সালমান খান ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা তারকাদের মধ্যে একজন।

বিতর্কের সঙ্গে বসবাস

কিন্তু জনপ্রিয় নায়কের পাশাপাশি বেপরোয়া জীবনযাপন করা উশৃঙ্খল এক সুপারস্টারের ভাবমূর্তিও তৈরি করেছেন তিনি।

তবে বিতর্ক আর দুর্ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও সালমানভক্তরা সবসময়ই তাকে সমর্থন দিয়েছেন। এমনকি তার ভক্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েছে।

ব্যবসায়িকভাবে দারুণ সফল সিনেমা তৈরির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশাল জনপ্রিয়তা রয়েছে তার।

সালমানের ফেসবুক পেজে লাইকের সংখ্যা সাড়ে তিন কোটির বেশি। টুইটারে তার অনুসরণকারীও সোয়া তিন কোটি।

কিন্তু খ্যাতনামা চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের তিন ছেলের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সালমানের চরিত্রের অন্য দিকটিও বেশ সমালোচিত। বিভিন্ন পার্টিতে তার নানা ধরনের কীর্তিকলাপ ও সহঅভিনেত্রীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক একসময় বলিউডের কানাঘুষার প্রধান উপাদান ছিল।

এমনও অভিযোগ আছে, এক রেস্তোরাঁয় ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক এক প্রেমিকার মাথায় এক বোতল কোমল পানীয় ঢেলে দিয়েছিলেন তিনি।

অভিনেত্রী ও সাবেক মিস ওয়ার্ল্ড ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায় সালমানের খারাপ ব্যবহারের কারণেই।

ঐশ্বরিয়া অভিযোগ করেছিলেন যে, সালমান তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন। সালমান খান এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

নারীদের সঙ্গে সম্প্রতি তার আচরণ অনেক পরিণত হলেও দুই বছর আগে কাজের ব্যস্ত সূচির উদাহরণ টানতে গিয়ে ধর্ষিত নারীর মতো অনুভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।

আরেকটি পৃথক ঘটনায় তিনি বলেছিলেন- ধূমপান, মদ্যপান ও কফির মতো দোষ ছাড়তে পারলেও নারীলিপ্সা তিনি ছাড়তে পারবেন না।

এ ঘটনার পর ভারতের জাতীয় নারী কমিশন তাকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আদেশ দেয়।

সালমানের বাবা সেই সময় বলেন, তার এই উক্তি যথাযথ নয়। তার ভাইয়েরা তার পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইলেও সালমান ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান।

নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে সালমান খান কমিশনকে জানিয়েছে, তারা এ ধরনের বিষয়ে কথা বলার অধিকার রাখে না। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি অপরাধমূলক কাজের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় শাস্তি পাওয়া থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।