‘বিউটিকে ধর্ষণে বাবুল, হত্যায় ময়না’

../news_img/60011 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: হবিগঞ্জের শায়েস্তাাগঞ্জে আলোচিত কিশোরী বিউটি আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার ময়না মিয়া।

ময়না জানিয়েছেন, প্রধান আসামি বাবুল মিয়া এই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন আর তিনি করেন খুন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আদালতের একাধিক কর্মকর্তা এই জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের কোন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ কওে মুখ খুলতে রাজি হননি।

শুক্রবার বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টা হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ময়না মিয়ার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
এর আগে বাবুল মিয়া বিউটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে একই আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তিনি খুন করেননি বলে দাবি করেছেন।

বিউটি আক্তারকে গত ২১ জানুয়ারি ধর্ষণের অভিযোগে ৪ মার্চ হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে বাবুল ও তার মা কলম চান বিবির বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত কিশোরীর বাবা। মামলায় সাক্ষী করা হয় ময়না মিয়াকে। এ ঘটনার পরই বিউটিকে পাঠিয়ে দেয়া হয় লাখাই উপজেলার গুণিপুর গ্রামে নানার বাড়িতে।

১৬ মার্চ রাতে সেখান থেকে নিখোঁজ হয় বিউটি। পরদিন গুণিপুর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে হাওরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তার শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় পুলিশ।

এ ঘটনায় ১৮ মার্চ বিউটির বাবা বাবুল মিয়া ও তার মা ইউপি সদস্য কলম চান বিবিকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
এরপর কলম চান বিবিকে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এবং বাবুলের বন্ধু ইসমাইল মিয়াকে অলিপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৩০ মার্চ র‌্যাবের একটি দল সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করে বাবুল মিয়াকেও।

হত্যার ঘটনাটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রতিবাদের ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ গণমাধ্যমে।
প্রথম দফায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করা হয়। বদলি করা হয় তাকে।

দ্বিতীয় দফায় তদন্তের দায়িত্ব পান শায়েস্তাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মানিকুল ইসলাম। তিনি বাবুল ও তার মা কলম চান বিবিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিউটির বাবা, মা, মামা, নানিসহ স্বজনদের।

বৃহস্পতিবার রাতে (৫ এপ্রিল) প্রথম দফায় দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলার সাক্ষী ময়না মিয়াকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতেই ঘটনার বিস্তারিত জানান ময়না মিয়া। নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তিনি অন্যান্যদের নামও জানান। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।