মোস্তাফিজদের স্তব্ধ করে দিলেন ব্রাভো

../news_img/60030 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ম্যাকলেনাহানের ১৮তম ওভারে ২০ রান তুলে ম্যাচটা জমিয়ে দিয়েছিলেন ডোয়াইন ব্রাভো। শেষ ২ ওভারে ২৭ রান লাগবে এমন অবস্থায় প্রথম ২ বলেই ছক্কা! ১০ বলে লাগবে ১৫ রান! চতুর্থ বলটা যখন স্টাম্পে লাগার পরও আউট হলেন না ব্রাভো, তখনই ম্যাচের জয়ী ধরা হচ্ছিল চেন্নাইকে। পঞ্চম বলে আবার ছক্কা, ৭ বলে ৭ রান লাগবে! ম্যাচ তো চেন্নাইয়ের পকেটেই! কিন্তু ১৯তম ওভারের শেষ বলে আউট ব্রাভো!

চোটের কারণে আগে মাঠ ছাড়া কেদার যাদব নামলেন শেষ ওভারে। মোস্তাফিজের প্রথম তিন বলে কোনো রান নিতে পারলেন না। চতুর্থ বলে ছক্কা, পঞ্চম বলে চার! ১ বল ও ১ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নিল চেন্নাই সুপার কিংস। ৩০ বলে ৩ চার ও ৭ ছক্কায় ৬৮ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলেছেন ব্রাভো।

অথচ এ ম্যাচের নায়ক হওয়ার কথা মায়াঙ্ক মারকান্দের নামের এক লেগ স্পিনারের। মারকান্দ লেগ স্পিনার, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁর আসল অস্ত্র গুগলি। লেগ স্পিনে এমন কোনো আহামরি বাঁক নেই, কিন্তু যখনই গুগলি করছেন তখনই বিভ্রান্তিকর ঘূর্ণি। আইপিএল ক্যারিয়ারে কোনো রান দেওয়ার আগেই তৃতীয় বলে আম্বাতি রাইডুকে এলবিডব্লু করে দিলেন। পঞ্চম বলেও পেতে পারতেন উইকেট। কিন্তু আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ না নেওয়ায় তা আর হয়নি। পরের ওভারেই অবশ্য সে ভুল কাটিয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। আরও একটি গুগলিতে বিভ্রান্ত হলেন ধোনি। এবার ঠিকই রিভিউ নেওয়া হলো, প্রথম দুই ওভারে ৪ রান দিয়েই ২ উইকেট মারকান্দের! নিজের শেষ বলে আরেকটি গুগলিতে চাহারকে স্টাম্পিং করে তৃতীয় উইকেটটাও বুঝে নিয়েছেন এই লেগ স্পিনার, মাত্র ২৩ রান দিয়েই।

মারকান্দের আগে অবশ্য এক পেসারই মুম্বাইকে প্রথম সাফল্য এনে দিয়েছেন। ব্যাটে ঝড় তোলার ব্যর্থতা ভুলিয়ে দিয়ে নিজের প্রথম দুই ওভারে দুই উইকেট তুলে নিয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। পরে অবশ্য মোস্তাফিজও অংশ নিয়েছেন উইকেট উৎসবে। মোস্তাফিজের প্রথম ওভারটিকে দুভাগে ভাগ করা যায়। রোহিত শর্মা প্রথম চার ওভারেই চার পেসারকে ব্যবহার করেছেন। মোস্তাফিজের ভাগে পড়েছিল দ্বিতীয় ওভার। ওভারের প্রথম ও শেষ বল দুটি প্রায় এক রকম ছিল। ফলটাও একই কভভারের ওপর দিয়ে চার খেলেন বাংলাদেশি পেসার। বাকি চারটি বলে বৈচিত্র রেখেছিলেন, তাই মাত্র এক রান এসেছিল সে ৪ বলে। ৯ রান দিয়ে শেষ হয়েছে মোস্তাফিজের প্রথম ওভার।

মোস্তাফিজের দ্বিতীয় ওভারের শুরুটাও খুব ভালো হয়নি। দ্বাদশ ওভারের প্রথম তিন বলেই এল পাঁচ রান। পরের দুই বলে দুই। শেষ বলটাতেই অবশেষে হতাশা কাটল মোস্তাফিজের। তাঁর কাটারে তুলে মারতে গিয়ে মিড অফে ক্যাচ দিলেন রবীন্দ্র জাদেজা (৭৫/৫)। ২০১৮ আইপিএলে মোস্তাফিজের প্রথম উইকেট। তৃতীয় ওভারে দুর্ভাগ্যবশত দুই চারের সুবাদে দিলেন ১৩ রান। শেষ ওভারে তো ওই অদ্ভুতরে ঘটনা।

এর আগে উইকেটের চেহারা বুঝিয়ে দিতে একদমই সময় নেননি দীপক চাহার। প্রথম বলেই দুর্দান্ত আউটসুইং। দ্বিতীয় বলে এগিয়ে এসে মারতে গেলেন রোহিত শর্মা, সুইংয়ের কাছে হার মানলেন। তৃতীয় বলেও তাই। ওরকম এক আউট সুইংয়ে এলবিডব্লু হয়ে ফিরে গেলেন এভিন লুইস। শর্মা ফিরে গেছেন শেন ওয়াটসনের বলে। টপ অর্ডারের এমন নাভিশ্বাস ভাবটা কাটল স্পিনাররা আসারর পর। ঈশান কিষান ও সূর্য কুমার যাদব মিলে ৫২ বলে ৭৮ রানের জুটিতে একটা ভালো ভিত্তি গড়ে দিলেন।

কিন্তু ১৫ রানের মধ্যে সূর্য কুমার (২৯ বলে ৪৩ রান) ও কিষানের (২৯ বলে ৪০) বিদায়ে মুম্বাইয়ের ইনিংসটা আবারও থমকে পড়ে। ১৫ ওভারে মাত্র ১১৭ রান ছিল মুম্বাইয়ের। দলকে টানার দায়িত্বটা এসে পড়ে হার্দিক পান্ডিয়ার কাঁধে। কিন্তু ঝড় যা তোলার সেটা তাঁর বড় ভাই ক্রুনালই তুললেন। যেভাবে শুরু করে ছিলেন তাতে স্কোরটা খুব সহজেই ১৮০ পেরোতে পারত। কিন্তু ডোয়াইন ব্রাভোর দুটো দুর্দান্ত ওভার মুম্বাইয়ের শেষটা ভালো হতে দেয়নি। একের পর এক ইয়র্কার দিয়ে দুই ওভারে মাত্র ৮ রান তুলতে দিয়েছেন ব্রাভো।

৫ চার ও ২ ছক্কায় ক্রুনাল ২২ বলে ৪১ রান তুললেও, ব্রাভোর ইয়র্কারের ঝাপটা গেছে হার্দিকের ওপর দিয়ে। মাত্র ২ চারে ২০ বলে ২২ রান করেছেন হার্দিক। হাতে ৬ উইকেট নিয়েও ১৬৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি মুম্বাই।