কোটা সংস্কার নিয়ে যা বললো বিএনপি

../news_img/59797mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::: সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে মনে করে বিএনপি। দুই বছর আগে ঘোষিত বিএনপির ‘ভিশন-২০৩০’-এ উল্লিখিত কোটা সংস্কারের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে আগামীতে ক্ষমতায় গেলে তিনটি ছাড়া বাকি কোটা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। মির্জা আলমগীর বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীরা বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

যেকোনো ব্যক্তি বা সংগঠন তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে নিজেদের বঞ্চিত মনে করলে তা থেকে প্রতিকার পাওয়ার জন্য সোচ্চার হবেন- এটাই গণতান্ত্রিক অধিকার। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে চলমান কোটা সংস্কারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন   প্রতিবাদে-বিক্ষোভে মুখরিত হয়ে ওঠে।

অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার আন্দোলনকারীদের দমাতে রোববার রাতে পুলিশ সহিংস হয়ে ওঠে। তাদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পুলিশি এই হামলায় অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ও চাকরি প্রার্থীরাসহ শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হন। পুলিশের এই হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা যোগ দিয়ে রাতে শাহবাগ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলনে যে কোটার বিষয়টি মূল প্রতিপাদ্য সে সম্বন্ধে এদেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষিত যুবসমাজের জীবন-জীবিকার প্রশ্নটি জড়িত। এ সম্বন্ধে বিএনপির নীতিনির্ধারণী কমিটি সম্পূর্ণ অবহিত এবং বিষয়টি নিয়ে তারা উৎকণ্ঠিত। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপির ভিশন-২০৩০ এ আমরা কোটার বিষয়টি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছি। আমরা জানি, এদেশকে সত্যিকারভাবে গড়ে তুলতে হলে মেধার কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে স্থির থেকেও আমরা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যৌক্তিকভাবে বিবেচনায় এনে ভিশন-২০৩০তে বলেছি- ‘মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথাযথ সংস্কার করা হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নারী ও প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীর কোটা ব্যতিরেকে বাকি কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে।’ মির্জা আলমগীর বলেন, গণতন্ত্রের নিয়ম-পদ্ধতির প্রতি এই সরকারের কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই। যা গত প্রায় এক দশকে বর্তমান সরকার বারবার তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে। যার ফলে বর্তমান শাসকদের দেশ পরিচালনায় অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছে দেশের জনগণ, বিশেষ করে এদেশের মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণ সমাজ।

এই অবিচারের অবসান ঘটাতে বিএনপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সমবেত মানুষের আওয়াজ শুনলেই শিহরিত হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে জনগণের চাহিদা ও দাবিকে তারা সবসময় পাশ কাটিয়ে কেবলমাত্র আওয়ামী চেতনার মানুষদের সংকীর্ণ স্বার্থে কাজ করে গেছে। মির্জা আলমগীর বলেন, চাকরি প্রার্থী ও ছাত্রছাত্রীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলনে রোববার বিনা উস্কানিতে পুলিশের বর্বরোচিত আক্রমণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

যারা গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, বিএনপি ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’-এর ৩৪ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছিল- ‘একটি দক্ষ, স্বচ্ছ, গতিশীল, মেধাবী, জবাবদিহিমূলক যুগোপযোগী ও গণমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে। মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথাযথ সংস্কার করা হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নারী ও প্রান্তিক নৃ-গোষ্ঠী কোটা ব্যতিরেকে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে। গতিশীল বিশ্বায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংবিধানের আলোকে একটি যথোপযুক্ত সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়ন করা হবে। সকল পর্যায়ে ই-গভর্ন্যান্স চালু করা হবে।

জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সেলিমুজ্জামান সেলিম উপস্থিত ছিলেন।