খালার হেফাজতে সন্তান, আদালতে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে কী বললেন মা?

../news_img/60088 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: টাঙ্গাইলের দেড় বছর বয়সী শিশু অংশুমান আপাতত তার খালার হেফাজতেই থাকছে। তবে মাকে দেখাশুনার সুযোগ দিতে বলেছে হাইকোর্ট। আলোচিত শিশু অংশুমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে কর্তৃক খালার হেফাজতে দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তার মায়ের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। উপযুক্ত আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে জানিয়েছে আদালত।

আজ বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তলব করা টাঙ্গাইল-ক অঞ্চলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক করে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদলত। হাইকোর্টের তলবের প্রেক্ষিতে সেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজ আদালতে হাজির হলে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম, খালার পক্ষে আইনজীবী সুব্রত সাহা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে আইনজীবী অজি উল্লাহ আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আদালতের আদেশের বিষয়ে আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী এখন শিশু অংশুমান আপাতত খালার হেফাজতে থাকবে। মা’ মাঝে মাঝে তার সন্তানকে দেখাশুনার সুযোগ পাবে। মামলাটি এখন উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন দেওয়ানী আদালতে যাবে। দেওয়ানী আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে দত্তক বিষয়ে এই মামলায় রায় দেবেন। এই বলে আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

শিশুকে খালার হেফাজতে দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন শিশুর মা। সেই আবেদেনের প্রেক্ষিতে গত ৩ এপ্রিল ১৮ মাসের শিশু অংশুমানকে খালার হেফাজতে দেয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে খালার হেফাজতে থাকা শিশু অংশুমান, তার খালা শোভা রানী গুহ ও স্বামী বিপ্লবগুহকে আদালতে হাজির করতে ঘাটাইল থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী শিশুর খালা শুভা রানী গুহ, মা জবা দে, বাবা বিপুল দে’সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আদালতে উপস্থিত হন।

আদালত সকল পক্ষের বক্তব্য শুনে এ আদেশ দেন। এ সময় শিশুটির মায়ের কান্নায় আদালতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আদালত শিশুটিকে খালার হেফাজতে দেয়ার পর মা কোলে নিতে চান। তখন মা শিশুটিকে কোলে নেন। শিশু কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি নাইমা হায়দার নিজেই শিশুটিকে কোলে নিয়ে শিশুটিকে আদর করেন। এ সময় বিচারপতি তার কান্না থামানের জন্য শিশুটিকে চকলেট দেন। কিছুক্ষণ শিশুটিকে বিচারপতি তার কাছে রেখে পরে আবার তার খালার কাছে ফেরত দেন।

আদালত এ মামলার সমাপ্তি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে খালা শিশু অংশুমানকে নিয়ে দ্রুত কোর্ট থেকে বের হয়ে চলে যান। এ সময় মা তার সন্তানের জন্য কান্নাকাটি করতে থাকেন।

এর আগে হাইকোর্টে করা মায়ের আবেদনে বলা হয়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী গ্রামের বিপুল দে ও জবা রানী দে দম্পত্তির ঘর আলোকিত করে একটি সন্তানের জন্ম হয়। শিশুটির নাম রাখা হয় অংশুমান দে। শিশুটির বয়স যখন এক বছর তখন তার খালা-খালু তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর শিশুটির খালা ও খালু নি:সন্তান দম্পত্তি হওয়ায় দুই তিন দিনের জন্য শিশু অংশুমানকে নিয়ে যায়। এরপর ওই শিশুর বাবা-মা তাদের সন্তান ফেরত চাইলে সন্তান না দিয়ে তাদের বাড়িতে আটকে রাখে।

এ অবস্থায় নিজ সন্তানকে ফেরত পেতে গত ১৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইল ক-অঞ্চলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবেদন করেন শিশুটির বাবা-মা। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘাটাইল থাকার ওসিকে শিশুটিসহ খালাকে হাজির করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ১৮ জানুয়ারি শিশুটিকে হাজির করা হলে তাকে তার মায়ের কাছে ফেরত দেয় আদালত। এরপর আবার ২১ মার্চ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে শিশিুটিকে তার খালার হেফাজতে দেওয়ার আদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এ আদেশটি চ্যালেঞ্জ করে শিশুটির বাবা-মা হাইকোর্টের রিট দায়ের করে