আশুগঞ্জে ওড়না ফেরত দিতে গিয়ে মা-মেয়ে কারাগারে

../news_img/60090 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক  :: পথে কুড়িয়ে পাওয়া ওড়না ফেরত দিতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মা ও মেয়েকে কারাগারে যেতে হয়েছে।চুরির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের ৭ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তারা হলেন কল্পনা ও তার মা রাজিয়া বেগম।

ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ, আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী বাইন হীরা ও তার গোপনীয় সহকারী মো. কামরুল ইসলাম বিনা অপরাধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওই মা-মেয়েকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তার গোপনীয় সহকারী বিষয়টি অস্বীকার করে তারা বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের একাডেমিক সুপারভাইজারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের এই সাজা দেয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাবাহারা ১১ বছরের শিশু লিপা উপজেলার পাশেই একটি স্কুলে পড়ে। সেই সুবাদে বিভিন্ন সময়ে উপজেলায় তার যাওয়া-আসা আছে। এ ছাড়াও তার বোন কল্পনা ও মা রাজিয়া বেগম উপজেলার বিভিন্ন অফিসারের বাসায় কাজ করেন।

কয়েক দিন আগে উপজেলার অফিসারদের গেজেটেড কোয়ার্টারের পাশেই একটি ওড়না পড়ে থাকতে দেখে শিশু নিপা সেটি নিয়ে নেয়। পরে নিপা সেটি তার বোন কল্পনাকে দিয়ে দেয়। এই ওড়না পরে রোববার কল্পনা আশুগঞ্জ বাজারে গেলে উপজেলার একাডেমিক সুপারভাইজার রোকসানা পারভীন সেটি দেখতে পেয়ে ওড়নাটি তার বলে দাবি করেন।

মানবিক কারণেই সোমবার দুপুরে ওড়নাটি ফেরত দিতে উপজেলার অফিসারদের গেজেটেড কোয়ার্টারে যান নিপা, কল্পনা ও তাদের মা রাজিয়া বেগম।

পরে ওড়না নিয়ে সেখানে সুপারভাইজার রোকসানা পারভিনের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় রোকসানা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের গালাগাল করেন।

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে তাদের ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গোপনীয় সহকারী মো. কামরুলের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কামরুল বিষয়টি নিয়ে একটি অভিযোগ দিতে বলেন রোকসানা পারভিনকে।

পরে রোকসানা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। সন্ধ্যায় এই অভিযোগের কোনো সত্যতা যাচাই না করেই কামরুলের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী বাইন হীরা তাদের প্রত্যেককে ৭ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

তবে এ সময় চুরি করার বিষয়ে কোনো সত্যতা যাচাই করা হয়নি বলে দাবি করা হয় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কল্পনার পরিবারের পক্ষ থেকে।

এদিকে এসব বিষয় অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী বাইন হীরা, তার গোপনীয় সহকারী কামরুল ইসলাম ও একাডেমিক সুপারভাইজার রোকসানা পারভিন।

তারা জানান, চুরি করার সময় হাতেনাতে তাদের ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। এ সময় লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের প্রত্যেকের ৭ দিনের সাজা দেয়া হয়। পাশাপাশি নিপা ১৮ বছরের কম বয়সের হওয়ায় মানবিক কারণে তাকে ক্ষমা করা হয়।

কল্পনার ভাই শফিকুল ও শাহজাহান অভিযোগ করেন, আমার বোন ও মা চুরি করেননি। আমার ছোট বোন নিপা ওড়নাটি উপজেলায় কুড়িয়ে পেয়ে আমার বোন কল্পনাকে দিয়েছিল দুই দিন আগে। চুরির কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই না করে আমার মা ও বোনকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ আপিল করার কোনো সামর্থ্যও আমাদের নেই। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে গোপনীয় সহকারী কামরুল আমাদের বাইরে কারও সঙ্গে কোনো কথা বলার জন্য নিষেধ করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গোপনীয় সহকারী মো. কামরুলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং এ বিষয়ে সংবাদ না করার জন্য বলেন।

একাডেমিক সুপারভাইজার রোকসানা পারভিন জানান, সোমবার দুপুরে নিপা, কল্পনা ও তার মা রাজিয়া বেগমকে আমার কোয়ার্টারে দেখতে পাই। এ সময় তাদের ওড়নাসহ ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গোপনীয় সহকারীর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আমি একটি লিখিত অভিযোগ করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কল্পনা ও তার মা রাজিয়ার ৭ দিন করে সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী বাইন হীরা জানান, সোমবার বিকালে একাডেমিক সুপারভাইজার রোকসানা পারভিনের বাসা থেকে থ্রিপিসসহ ওড়না চুরি ও তার সঙ্গে হাতাহাতির অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিপার মা রাজিয়া বেগম ও বড় বোন কল্পনা বেগমকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তাদের থানা পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।