কোটা সংস্কার: যে কারণে আবার আন্দোলনের ঘোষণা

../news_img/60096 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সরকারের প্রস্তাবে রাজি হয়ে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দিলেও আবারও আন্দোলনে নেমেছেন চাকরিপ্রার্থী এবং শিক্ষার্থীরা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ওবায়দুল কাদের তাদের সঙ্গে বৈঠকে ৭ মে’র মধ্যে কোটা ব্যবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্তের কথা জানালেও প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন, সড়ক অবরোধ এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্ট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা।

মূলত যে কারণে আবারও আন্দোলনের ঘোষণা

আন্দোলনকারীরা যে কারণগুলোর কথা বলছেন তার মধ্যে আছে: একটি অংশের স্থগিতের সিদ্ধান্ত না মেনে আলাদা বিক্ষোভ করা, কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে সাড়া না দেওয়া, ‘বাজেটের পর কোটা সংস্কারে হাত’ অর্থমন্ত্রীর এমন ঘোষণা, আটক সকল আন্দোলনকারীদের মুক্তি না দেওয়া এবং পুলিশের হামলায় আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব না নেওয়া।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভ এবং দেশব্যাপী সড়ক অবরোধের পর সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয় আন্দোলনকারীদের। এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে সোমবার বিকেলে সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ২০ জন প্রতিনিধি।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে পরিষদের সমন্বয়ক হাসান আল মামুন বলেন, আগামী ৭ মে’র মধ্যে কোটা সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। তাই আমরা আগামী ৭ মে পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন স্থগিত করলাম।

এ ঘোষণা দিয়ে ওই প্রতিনিধিদল টিএসসিতে এলে তাদের বিরোধিতা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় একটি অংশ। মঙ্গলবার সারাদিন তারা টিএসসি অবরোধ করে বিক্ষোভও করেন।

সোমবার জাতীয় সংসদে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হলে মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে তার বক্তব্য বিকেলের মধ্যে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

এর মধ্যেই দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাজেটের পরে কোটা সংস্কারে হাত দেওয়া হবে।
আন্দোলনকারীদের নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টার মধ্যে কৃষিমন্ত্রী সাড়া না দেওয়া এবং অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বৈঠকে বসেন অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। বৈঠকের পর তারা বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে আসেন।

পরিষদের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মলেনে বলেন, “গতকাল সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনুরোধে আমরা কর্মসূচি ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত করার ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু কাল সংসদে দাঁড়িয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ৮০ শতাংশ আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালিগালাজ করেন। এরপর আজ বিকেলে আমাদের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাজেটের আগ পর্যন্ত কোটা সংস্কার সম্ভব নয়। এই দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া আমরা মানি না।”

‘‘তাছাড়া আমাদের যাদের পুলিশ আটক করেছিল তাদের ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও ছাড়া হয়নি এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকারের নেওয়ার কথা থাকলেও আমাদের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা হয়নি,’’ অভিযোগ করেন তিনি।

পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, “সচিবালয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত সারাদেশের ছাত্রসমাজ মেনে নেয়নি। আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।”

তাদের ভাষায় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে বেরিয়ে আসে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। আগে থেকে স্থগিতের সিদ্ধান্ত না মেনে যারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন তারাও যোগ দেন এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে।