ভিসির বাড়িতে হামলা মেনে নেব না: প্রধানমন্ত্রী

../news_img/60109 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনে হামলাকারীদের ছাড় না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি চাকরিতে কোটা থাকার দরকার নাই বলে যে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা সেখানে এ কথাটাও বলেন।  সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে অস্থিরতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটা থাকলে সংস্কার নিয়ে বারবার আন্দোলন হবে। মানুষ ভুগবে। তাই সরকারি চাকরিতে কোটা থাকার কোনো দরকার নাই।

এ সময় রবিবার গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সেদিন বিকাল সোয়া তিনটা থেকে রাত আটটা অবধি শাহবাগ এলাকা অবরোধ করে রাখে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। পরে সেখান থেকে তাদের উঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। আর এই সংঘর্ষ ছড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। আর এতে এক ছাত্রের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ফটক ভেঙে গভীর রাতে বাইরে বেরিয়ে আসে মেয়েরা। ছেলেরাও জড়ো হয়ে মিছিল করতে থাকে। এর এক পর্যায়ে উপাচার্য ভবনে হামলা হয়।

হামলাকারীরা ভবনে থাকা গাড়ি এবং নিচতলা ও দোতলা থেকে আসবাবপত্র বাইরে এনে পুড়িয়ে দেয়। লুট করে স্বর্ণালঙ্কার থেকে শুরু করে প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন ও মূল্যবান অন্যান্য সামগ্রী।

ফেসবুকে ছাত্র মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ আমিই গড়ে তুলেছিলাম।…বাংলাদেশকে আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা দেব, সেই শিক্ষা দিয়েছিলাম। যদি সেই শিক্ষা গঠনমূলক কাজে ব্যবহার না করে এখন সেটা ব্যবহার হচ্ছে গুজব ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে।’

‘একটা ছেলের মাথায় আঘাত লেগেছে। হঠাৎ একটি ছেলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিল সে মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে ছেলে মেয়ে সব বেরিয়ে গেল।’

‘এমনকি মেয়েরা রাত একটার সময় হলের গেট ভেঙে মেয়েরা বের হয়ে গেল রাস্তায়। শুধু একটা গুজবের ওপর। ওই ছেলে যখন বলল, আমি মরি নাই বেঁচে আছি, তখন তার মুখটা কোথায় থাকল?’

‘এই স্ট্যাটাসটা কে দিল, মিথ্যা গুজব ছড়াল। কেন দিল এটা?’

‘এই যে মেয়েরা বের হয়ে এলো, এর পরে যদি কোনো অঘটন ঘটত, তার দায় কে নিত। এটা একবার কি কেউ চিন্তা করেছে?’

উপাচার্যের বাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বা ছাত্রীরা আক্রমণ করতে পারে, ভাঙচুর করতে পারে?...ভিসির বাড়ির ছবি দেখে মনে পড়ছিল ওই ৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের ৩২ নম্বরের বাড়িতে যেভাবে ভাঙচুর করেছিল, সেই একই কায়দায়।’

‘এমনকি সব লকার খুলে সমস্ত গয়নাগাটি, টাকা পয়সা চুরি করা থেকে শুরু করে বাথরুমের কমোড খুলে রাখা, সব কিছু ভেঙে চুরমার করে দেয়া।’

‘ভিসির ছেলে মেয়ে, আত্মীয় স্বজন ছিল। তারা ভয়ে… এমনকি ভিসি সামনে ছিল, তাকে আক্রমণ করা হয়েছিল। অন্য ছেলে মেয়েরা তাকে বাঁচিয়েছে। অন্যরা লুকিয়ে ছিল ভয়ে।’

‘সেখানে সিসি ক্যামেরা লাগানো ছিল, ঢুকার সাথে সাথে ক্যামেরা ভেঙেছে, ক্যামেরার রেকর্ডিং বক্স খুলে নিয়ে গেছে।’ এই হামলাকে পরিকল্পিত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করি।’

হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলেও মনে করেন না প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘কারণ কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষককে এভাবে আঘাত করতে পারে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভিসির বাড়ি কারা ভাঙচুর করেছে, লুটপাট কারা করেছে, লুটের মাল কার কার কাছে আছে, এই ছাত্রদেরকেই খুঁজে বের করে দিতে হবে।’

‘সেই সাথে সাথে এই ভাঙচুর, লুটপাটের সাথে যারা জড়িত, অবশ্যই তাদের বিচার হতে হবে।’

‘ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাকে আমি আদেশ দিয়েছি, এটা তদন্ত করে বের করতে হবে। সেই সাথে আমি শিক্ষক-ছাত্র তাদেরও সহযোগিতা চাই, কারণ এত বড় অন্যায় আমার কোনোমতে মেনে নিতে পারি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনও আমাদের শিক্ষক যারা বেঁচে আছেন, যখন তাদের দেখি, তাদেরকে সম্মান করি। আমি প্রধানমন্ত্রী হই আর যাই হই, যখন শিক্ষকদের কাছে যাই, তখন আমি তাদের ছাত্রী। সেভাবেই আমি তাদের সম্মান করি।’

‘গুরুজনকে অপমান করে শিক্ষালাভ করা যায় না। এটাতে প্রকৃত শিক্ষা হয় না। ডিগ্রি লাভ করতে পারে, কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা হয় না।’