স্নায়ুক্ষয়ী সেই শেষ ১০ মিনিট

../news_img/60119 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ঘরের মাঠে কোয়ার্টার ফাইনাল প্রথম লেগে ৩-০ গোলে পিছিয়ে ছিল জুভেন্টাস। ফিরতি লেগে রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানো যে প্রায় অসম্ভব, তা জানা ছিল সবার। কিন্তু বার্সেলোনার বিপক্ষে আগের রাতেই ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছে এএস রোমা। জুভেন্টাস কী তা দেখেই অনুপ্রাণিত হয়েছিল? ৭৬ সেকেন্ডে মারিও মানজুকিচের গোলটা ছিল ইতালিয়ান ক্লাবটির ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম পদক্ষেপ। এটা আবার চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্নাব্যুতে করা দ্রুততম গোল! তখনই সবাই যা বোঝার বুঝে নিয়েছে। ম্যাচটা হতে যাচ্ছে উত্তেজনার ঠাস বুনটে লেখা এক চিত্রনাট্য!

ঘটেছেও ঠিক তাই। ৬০ মিনিটের মধ্যে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩ গোলে সমতায় ফিরেছে জুভেন্টাস। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে মনে হয়েছে অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে লড়াই। কিন্তু যোগ করা সময়ে কি থেকে যেন কী ঘটে গেল! ৯০ থেকে ৯৯— এই ১০ মিনিট দুই দলের সমর্থকেরা কতটা স্নায়ুচাপে ছিলেন, সেটা ম্যাচটা যাঁরা দেখেছেন শুধু তাঁরাই বলতে পারবেন। আসুন ফিরে দেখি উত্তেজনায় ঠাসা সেই ১০ মিনিট:

৯০ মিনিট: জুভেন্টাসের বক্সে রিয়াল মাদ্রিদের লুকাস ভাসকুয়েজকে ফেলে দিলেন মেধি বেনাশিয়া। পেনাল্টির বাঁশি বাজালেন ইংরেজ রেফারি মাইকেল অলিভার। হলুদ কার্ডও দেখালেন বেনাশিয়াকে। প্রতিবাদে মুখর ‘জুভ’ খেলোয়াড়েরা ঘিরে ধরলেন রেফারিকে।

৯৩ মিনিট: বিক্ষুব্ধ জুভেন্টাস গোলরক্ষক বুফন মারমুখো ভঙ্গিতে ছুটে এলেন রেফারির প্রতি। পেনাল্টির প্রতিবাদে রেফারির দিকে বারবার আঙুল তুলেও কিছু একটা বোঝালেন। পরিণামে দেখতে হলো লাল কার্ড। বুফনের চ্যাম্পিয়নস লিগ ক্যারিয়ারে এটাই প্রথম লাল কার্ড।

৯৬ মিনিট: মাঠ ছাড়লেন বুফন। জুভেন্টাস স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েনের বদলে মাঠে নামলেন আর্সেনালের সাবেক গোলরক্ষক ওজিচিয়েহ সিজেস্কনি।

৯৭ মিনিট: রোনালদোর স্নায়ু কী ধাতুতেই না গড়া! ভীষণ চাপের মুহূর্তেও গোলপোস্টের ডান প্রান্তের কোনা ঘেঁষে শট নিলেন এবং গোল। শটটা একটু এদিক-সেদিক হলেই মাথা চাপড়াতে হতো।

৯৮ মিনিট: জয়সূচক গোলের আনন্দে জার্সি খুলে বুনো উল্লাস রোনালদোর। রেফারি তাঁর কাজ করলেন। হলুদ কার্ড দেখালেন রিয়াল ফরোয়ার্ডকে।

৯৯ মিনিট: ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজালেন রেফারি। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলের জয়ে রিয়াল সেমিফাইনালে।