অবশেষে জানা গেল লন্ডন ছেড়ে কেন ঢাকা আসলেন কোকোর স্ত্রী?

../news_img/60122 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: লন্ডন থেকে ঢাকায় এ‌সে‌ছেন খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমা‌নের স্ত্রী শার্মিলা রহমান সিঁথি। সঙ্গে নি‌য়ে এ‌সে‌ছেন দুই মে‌য়ে জা‌ফিয়া রহমান ও জা‌হিয়া রহমান‌কে।

বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সিঁথির কয়েকজন স্বজন বলছেন, পড়া‌শোনায় প্রা‌তিষ্ঠা‌নিক ছু‌টি, তাই কারাব‌ন্দি অসুস্থ দাদী‌কে দেখ‌তে চে‌য়ে আবদার ধরেছিলেন কোকোর দুই মেয়ে। মেয়েদের আবদার পূরণেই ঢাকায় এসেছেন সিঁথি।

জিয়া পরিবারের সঙ্গে সং‌শ্লিষ্ট‌ কয়েক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বিএন‌পির সি‌নিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেই শাশুড়ি খালেদা জিয়াকে দেখতে ঢাকায় এসেছেন কোকোর স্ত্রী। দেশে এসে তিনি সম্পূর্ণ পারিবারিক পরিবেশে চলাফেরা করছেন। তিনি রাজনীতি করতে আসেননি।

খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় অবস্থান করছেন কোকোর স্ত্রী ও দুই মেয়ে। তারা আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ করতে অপরগতা অনেকেই জানান, শার্মিলা রহমান আরও বেশ কিছুদিন দেশে থাকবেন। সেটা আগামী ৮ মে পর্যন্ত হতে পারে। উদ্দেশ্য, খালেদা জিয়া জামিন পেলে সার্বিক খোঁজ-খবর নিয়ে লন্ডন ফিরে যাবেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারান্তরীণ রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বড় ছেলে তারেক রহমানও কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন। খালেদার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই মেয়েও লন্ডনেই থাকছেন।

কারাগারে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর লন্ডন থেকে দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দেশে আসেন শার্মিলা রহমান। দেশে আসার পরদিনই কারাগারে গিয়ে শাশুড়ির সাথে দেখা করেন। সর্বশেষ গত ৭ এপ্রিল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও শ্বাশুড়ির সঙ্গে দেখা করেছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্র মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের ওপর শুনানির পরবর্তী দিনধার্য রয়েছে আসছে ৮ মে। গত ৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা সেবার উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে স্থাস্থ্যপরীক্ষা শেষে আবারও কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

পারিবারিক সূত্রমতে, কোকো মারা যাবার পর শার্মিলা রহমান তার দুই সন্তানকে নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে লন্ডনে চলে যান। এখন তারা লন্ডনেই বাস করছেন। ত‌বে ভাসুর তারেক রহমানও সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন। কোকোর পরিবারের সদস্যরাও একই এলাকায় কিন্তু আলাদা ফ্ল্যাটে থাকছেন। লন্ডনে তাদের অভিভাবক তারেক রহমান।

শার্মিলা রহমান ঢাকায় আসার পর থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের সার্বিক খোঁজ-খবর রাখছেন। রাজনীতির বাইরে থেকে সম্পূর্ণ পারিবারিক বন্ধনে তাদের মধ্যে একাধিকবার দেখা-সাক্ষাতও হয়েছে।

শার্মিলা রহমান সিঁথি সাবেক প্রকৌশলী হাসান রাজার মেয়ে। তার জন্ম মাগুরায় মামা বাড়িতে। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান না হলেও বৈবাহিক সূত্রে চলে এসেছেন রাজনীতির আলোচনাতে। শাশুড়ির (খালেদা জিয়া) অসুস্থতার খবর শুনে হঠাৎ দেশে ফেরায় গত কয়েকদিন ধরেই মাগুরা-১ আসন থেকে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শার্মিলা রহমান সিঁথির প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সামাজিক গণমাধ্যমেও চলছে তার প্রচার। শার্মিলার বড় মামা সৈয়দ মোকাদ্দেস আলী মাগুরা জেলা বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

জেলা বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা যায়, দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও মন্ত্রী মজিদ উল হক বিএনপির রাজনীতি থেকে বিদায়ের পর মাগুরা-১ আসনে আরেক সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী থেকে শুরু করে মাগুরা পৌরসভার সাবেক মেয়র ইকবাল আকতার খান কাফুর পর্যন্ত কোনো প্রার্থীকে দিয়েই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারেনি দলটি। যে কারণে আসনটি নিজেদের দখলে নিতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ নতুন করে হিসাব-নিকাশে বসেছেন।

ইতোমধ্যে মাগুরা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবির মুরাদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক আহসান হাবিব কিশোর, সাবেক ছাত্রনেতা মনোয়ার হোসেন খান, উপজেলা চেয়ারম্যান বদরুল আলম হিরোসহ বেশ কয়েকজন নিজেদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে পোস্টার ছেপেছেন। তারপরও তাদের নামের পাশাপাশি এখন বেশ গুরুত্ব শার্মিলার নামটিও উচ্চারিত হচ্ছে।

শার্মিলার দেশে ফেরা এবং রাজনীতির বিষয়ে মাগুরা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী প্রিয়.কমকে বলেন, ‘কারাব‌ন্দি অসুস্থ শাশুড়িকে দেখতে প্রয়াত আরাফাত রহমানের স্ত্রী শার্মিলা রহমান সিঁথি দেশে এসেছেন শুনতে পেরেছি। এখনও আমার সঙ্গে দেখাও হয় নাই, কথাও হয় নাই। তাই রাজনীতি তো দূরের কথা, তার অবস্থান ও আসা-যাওয়া কোনো কিছুই তো বলতে পারছি না।’

২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনানিবাসের বাড়ি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার সঙ্গে তার ছেলে কোকোও গ্রেফতার হন। পরের বছর ১৭ জুলাই সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যান কোকো। সেখান থেকে তিনি পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে কুয়ালালামপুরে একটি ভাড়া বাসায় ছিলেন তিনি।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতা নেওয়ার পর কোকোর সাময়িক মুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আদালতের ডাকে না ফিরলে কোকোকে পলাতক দেখিয়েই মুদ্রাপাচারের অভিযোগে দুদকের করা একটি মামলার বিচার শুরু হয়। পরে ২০১১ সালের ২৩ জুন মুদ্রাপাচারের মামলার রায়ে আরাফাতকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত; সেই সঙ্গে ১৯ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়। কিন্তু বিদেশে থাকায় আপিলের সুযোগ পাননি তিনি। তবে বিএনপির দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরাফাত রহমান কোকো মারা যান।