বাসে ধর্ষণ হলে মৃত্যুদণ্ড চায় মালিক সমিতি

../news_img/60126 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীন কারাদণ্ড হলেও বাসে ধর্ষণের ঘটনায় চালক, তার সহকারী এবং বাসের সুপারভাইজার জড়িত থাকায় তাদের মৃত্যুদণ্ড চায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মালিক-শ্রমিক যৌথ সভায় শেষে এসব ঘোষণা দেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ।

সভা শেষে জানানো হয়, বাসে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে অপরাধীদের মালিকরই পুলিশের হাতে তুলে দেবেন।

অপরাধী এই চালক বা সহকারীরা যাতে অন্য কোন পরিবহনে চাকরি না পায় সে বিষয়টিও তদারকি করার প্রতিশ্রুতি দেন বাস মালিক-শ্রমিকরা।

গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৪-৩৯৬৩) তরুণী রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠে। এই ঘটনা মামলার পর  চালক ও তার সহযোগীসহ চার জনের ফাঁসি, এক জনের সাত বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে টাঙ্গাইলের একটি আদালত। সেই সঙ্গে বাসে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটির মালিকানাও রূপার পরিবারকে দেয়ার নির্দেশ এসেছে।

এর আগেও মানিকগঞ্জে একটি বাসে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় একজন হকার ঝুঁকি নিয়ে সেটি রোধ করেন। আর চলতি সপ্তাহে

ঢাকার ধামরাইয়ে একটি বাসে ধর্ষণের অভিযোগ উঠার পর চালক ও সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

বাসে উঠবে না হকার, ভিক্ষুক, হিজড়া

সভায় অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ব কমাতেও একটি সিদ্ধান্ত হয়। বাসে এখন থেকে কোন হকার উঠতে পারবে না বলে জানানান খন্দকার এনায়েতউল্লাহ। এর সাথে ভিক্ষুক ও হিজড়া হিসেবে পরিচিত তৃতীয় লিঙ্গের যারা আছেন তারাও উঠতে পারবে না বলে জানিয়েছেন মালিক-শ্রমিকরা।

বেপরোয়া গতি নিয়ে আলোচনা

সম্প্রতি একই রুটে চলা একাধিক বাসের মধ্যে গতির লড়াইয়ে হাত হারানো রাজীব এবং ধানমন্ডিতে এক নারীর মারাত্বক আহত হওয়া বিষয়টি তুলে ধরেন এনায়েতউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে দ্রুত গতিতে গাড়ি চলার কোনো সুযোগ নেই। অসম প্রতিযোগিতার জন্য বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্যই সম্প্রতি রাজধানীতে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

এক্ষেত্রে মালিকরাও দায় এড়াতে পারেন না অভিযোগ করে ভাড়ার চুক্তিতে ভিত্তিতে মালিকদের গাড়ি না চালানোর পরামর্শ দেন এনায়েত।

রাজধানীর বেশিরভাগ বাস চালক নেশা করেন উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন নেতা বলেন, ‘নেশাখোর চালক ও হেলপারদের হাতে কেউ গাড়ির চাবি তুলে দেবেন না।’

‘তারা নেশা করে ছোট রাস্তাকে বড় করে দেখে। তাই দুর্ঘটনা ঘটে। যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই তাদেরকেও গাড়ি দেবেন না।’

চালকদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে চাকরি দেয়ারও আহ্বান জানান এনায়েতউল্লাগ। বলেন, ‘গাড়ির চাবি দেওয়ার আগে সে কোথায় থাকে, তার বাড়ি কোথায় ও লাইসেন্স সঠিক কিনা তা যাচাই করুন।’

লাইসেন্স করতে গিয়ে কোন সমস্যায় পড়লে সেটা নেতারা দেখবেন বলেও সভায় জানানো হয়।