ভিকটিম গৃহকর্মী প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা!

../news_img/60210 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আওয়ামী মহিলা লীগের এক নেত্রীর পঙ্গু স্বামী ইউসুফ আলীকে (৫০) মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু ও তার সমর্থকরা। মিথ্যা মামলা সাজানো এবং ফেসবুকে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অপরাধে এরই মধ্যে থানায় মুচলেকা দিয়েছেন কাউন্সিলরের তিন সমর্থক।
তারা হলেন- উত্তর যাত্রাবাড়ীর মিনহাজ উদ্দিন রিয়াদ (কাউন্সিলর অফিসের পিওন), শেখ আজিজুর রহমান (কাউন্সিলর অফিসের বিদ্যুৎ মিস্ত্রি) ও সোহেল রানা।

উত্তর যাত্রাবাড়ীর ১/১৬ সুতিখালপাড়ের বাসায় ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে ১১ বছরের গৃহকর্মী শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগ করেন কাউন্সিলর অনু ও তার সমর্থকরা।

এ ঘটনায় ১২ এপ্রিল ইউসুফের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। জেলা পর্যায়ের আওয়ামী মহিলা লীগের এক নেত্রীর স্বামী ইউসুফ এক সময় ব্যবসা করতেন। সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি পঙ্গু হন। সাংগঠনিক কাজে তার স্ত্রী বেশিরভাগ সময় বাসার বাইরে থাকেন।

সুতিখালপাড়ের একটি তিন রুমের ফ্ল্যাটের দুই রুম নিয়ে থাকেন সোহেল রানা এবং এক রুম নিয়ে থাকেন ইউসুফ। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-ঝাটি লাগত।

এরই জের ধরে ইউসুফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ করেন সোহেল। এরপর ওই গৃহকর্মীর বাবাকে মিথ্যা মামলা করতে বাধ্য করেন। পুলিশের তদন্তে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় ইউসুফ এখন জেলহাজতে।

১২ এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে জবানবন্দিতে শিশুটি জানায়, ধর্ষণের ঘটনাটি মিথ্যা।  সে বলে, ‘আমি ইউসুফ আলীর বাসায় কাজ করতাম। তিনি আমাকে মাঝেমধ্যে মারধর করতেন।

১১ এপ্রিল রাতে পাশের কক্ষের সোহেল রানার ছোট্ট বাচ্চার হাত আমাদের দরজায় আটকে যায়। আমি দরজা থেকে ওই বাচ্চার হাত ছাড়িয়ে তাকে কোলে নিই। এ কারণে ইউসুফ আমাকে মারধর করেন। এরপর সোহেল ও তার স্ত্রী আকলিমা তাদের বাসায় আমাকে ডেকে নেন।

ইউসুফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা দেয়ার জন্য তারা আমাকে চাপ দেন। এক পর্যায়ে আমার গলায় ছুরি ধরে আকলিমা হুমকি দেন, ‘আমরা তোকে যা শিখিয়ে দেব তুই তাই বলবি। এর বাইরে কিছু বলতে পারবি না। ইউসুফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দেয়া হবে। তুই কেবল বলবি ইউসুফ তোকে ধর্ষণ করেছে।

না হলে তোকে মেরে ফেলব।’ শিশুটি বলে, সোহেলের কক্ষ থেকে ইউসুফের কক্ষে এলে তিনি আমাকে আবার মারধর করেন। এ সময় তার স্ত্রী ছিলেন না। রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় কাউন্সিলর অনু, পিওন রিয়াদ, আজিজুল ও সোহেল রানাসহ কয়েকজন দরজা ধাক্কা দেন।

দরজা খুললে তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করেন ইউসুফ আমাকে ধর্ষণ করেছে কিনা। এ সময় আমি সোহেল ও তার স্ত্রীর শিখিয়ে দেয়া কথামতো বলি। গৃহকর্মীর বাবা  বলেন, ইউসুফের সঙ্গে কাউন্সিলরের লোকদের পূর্বশত্রুতা ছিল। এর জের ধরে আমার মেয়েকে দিয়ে তারা মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে।

সোহেল ও তার স্ত্রী আমার মেয়েকে আটকে রেখেছিল। আমার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। মামলা করার পর আমি জানতে পারি ঘটনাটি সাজানো। তার মেয়েকে আর কোনো দিন কারও বাসায় কাজে দেবেন না বলেও জানান তিনি।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিছুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণ বা ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবে ইউসুফ গৃহকর্মীকে মারধর করত। আর মারধরের এ দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে এবং ওই দৃশ্য দেখিয়ে এলাকাবাসীকে সংঘবদ্ধ করে সোহেল।

সুতিখালপাড়ের ওই বাড়িতে গিয়ে সোহেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাসায় আছি। বাইরে যাওয়া বা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তাকে বারণ করে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু  বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগটি সত্য। তাই ইউসুফকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। পুলিশ তদন্ত করে কি পেয়েছে তা বলতে পারব না।