মোংলায় ডুবে যাওয়া সেই লাইটার জাহাজের উদ্ধারে ডুবুরিদল

../news_img/60265 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের হারবাড়িয়া এলাকায় ডুবে যাওয়া কয়লাবোঝাই লাইটার জাহাজের উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে লাইটার মালিক পক্ষের উদ্যোগে দুর্ঘটনার পাঁচ দিন পর এ উদ্ধারকাজ শুরু হয়। প্রয়োজনীয় নৌযানসহ ৩০ জনের এক দল ডুবুরি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।

এর আগে রোববার ভোররাতে ম্যাদার ভ্যাসেল থেকে কয়লা ৭৭৫ টন কয়লা নিয়ে ছেড়ে আসার পর ডুবোচরে আটকে ডুবে যায় এমভি বিলাশ নামের এ লাইটার জাহাজটি।

এ দুর্ঘটনার মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদফতরের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ দ্রুত কয়লাসহ লাইটারটি উদ্ধারের তাগিদ দেয়।

এছাড়া লাইটার মালিক পক্ষকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় ডুবন্ত লাইটার ও কয়লা উত্তোলনে বেসরকারি একটি স্যালভেজ কোম্পানিকে নিয়োগ করে মালিক পক্ষ। প্রয়োজনীয় নৌযান সংগ্রহসহ শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে তারা।

ডুবন্ত লাইটার জাহাজের মাস্টার মো. ফরিদ মিয়া জানান, উদ্ধার তৎপরতার প্রথম পর্যায় পাম্পের সাহায্যে ডুবন্ত লাইটারের কয়লা অপসারণ এবং পরে বড় নৌযানের সাহায্যে লাইটারটি পুরোপুরি উদ্ধার করা হবে।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সহসভাপতি মো. বাহার বলেন, তাদের সংগঠন উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। ডুবন্ত লাইটারটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় নৌযান ও জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কয়লা উত্তোলন ও লাইটারটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত হোসেন স্যালভেজের মালিক মো. সোহরাব হোসেন মোল্লা বলেন, প্রচণ্ড ঢেউয়ের কারণে মোংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়ায় ডুবন্ত কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ উদ্ধারের কাজ শুরু করতে পারছে না ডুবুরিরা।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও ঢেউ এবং স্রোতের ফলে শুক্রবার বিকালে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। স্রোতের টানে কয়লা উত্তোলনের জন্য ড্রেজারের পাইপ কার্গো জাহাজে স্থাপন করা যাচ্ছে না।

এদিকে এ দুর্ঘটনার জন্য লাইটার মাস্টারের অদক্ষতাকে দায়ী করেছে বন বিভাগ।

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির বলেন, মালিক পক্ষের লোকজন উদ্ধার তৎপরতার জন্য ঘটনাস্থলে অবস্থান করলেও নদী উত্তাল থাকায় এবং প্রচণ্ড স্রোতে কাজ করতে বিঘ্ন ঘটছে। তবে তারা সেখানে উদ্ধারের প্রাথমিক কাজকর্ম করছেন। আর উদ্ধারকাজে বিলম্ব হলে বন আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান বন বিভাগ।

ডুবন্ত জাহাজটি উদ্ধারের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায় মালিক পক্ষের ভাড়াকৃত একটি বলগেট, একটি ড্রেজার, একটি লঞ্চ ও ৩০ সদস্যের একটি ডুবুরিদল।