তথ্য ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা বললেন তুরিন আফরোজ

../news_img/60510 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে এক আসামির সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক আসামির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজের ‘গোপন বৈঠক’ সংক্রান্ত অভিযোগের ফাইল এখন আইন মন্ত্রণালয়ে। বুধবার বিকালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, এ সংক্রান্ত নথি মন্ত্রনালয়ে এসেছে। পড়ে দেখার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে গত ২৪ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠান।

জানা গেছে, ১১ নভেম্বর ওয়াহিদুল হকের মামলাটি পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয় প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে। দায়িত্ব পাওয়ার সপ্তাহখানেক পর, তিনি প্রথমে টেলিফোনে ও পরে সরাসরি ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে মামলার বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তুরিন আফরোজ বলেন, ‘আমাকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সত্য নয়। আমি এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদে বহাল আছি। আমাকে কেউ বরখাস্ত করেনি।’

‘প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বরখাস্ত হতে পারেন’ শিরোনামে বুধবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তুরিন আফরোজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে মন্তব্য নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

তুরিন আফরোজ স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আমাকে নিয়ে একটি অতি উৎসাহী দৈনিক পত্রিকাতে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত করা হলে সোশ্যাল মিডিয়াতে তা ভাইরাল করে আমাকে নিয়ে নানা কুৎসা রটনা করা হচ্ছে। এটাও বলা হচ্ছে যে আমাকে প্রসিকিউটর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য-

১. আমি এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদে বহাল আছি। আমাকে কেউ বরখাস্ত করেনি।

২. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে ৮(২) ধারা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটরের একজন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার এখতিয়ার রয়েছে। সুতরাং যে কোনো মামলাতে তদন্ত করার এখতিয়ার আমার আছে। আর তদন্ত করতে গেলে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করতে হয়। সুতরাং আমি তদন্তের স্বার্থে যে কোনো প্রয়োজনীয় কৌশল গ্রহণ করতে পারি।

৩. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমি এই পর্যন্ত প্রসিকিউটর হিসেবে যা কিছুই করেছি তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত ছিলেন।

৪. আমাকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সত্য নয়। যেহেতু বিষয়টি এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখছেন তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তদন্ত শেষ হলে আমি আমার বক্তব্য সর্ব সম্মুখে প্রকাশ করব। আশা করি সেই পর্যন্ত আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমালোচকরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবেন।

পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এক আসামির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ গোপনে বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার জেরে ট্রাইব্যুনালের সব ধরনের মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন প্রসিকিউশন।