‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মহাকাশে ছুটবে স্যাটেলাইট

../news_img/60460mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান নিয়ে মহাকাশের দিকে ছুটবে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ১২ মিনিট থেকে ৬টা ২২ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১২ মিনিট থেকে ৪টা ২২ মিনিট) উপগ্রহটির উৎক্ষেপণ হবে।

বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের সময় ঠিক করেছে বলে সেন্টারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার ফ্লোরিডার একটি হোটেলে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বিষয়ে কথা বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

তিনি বলেন, মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটে সাধারণত কোনো কিছুই লেখা থাকে না বা লেখার নিয়ম নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে আরেকটি ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গায়ে লেখা থাকছে- ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’।

কয়েক মাস আগে সরেজমিন স্যাটেলাইট কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখতে ফ্লোরিডা যান তারানা হালিম। তখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থালাস অ্যালেনিয়া জানায়, সাধারণত স্যাটেলাইটের কোথাও কিছু লেখা যায় না বা লেখার কোনো নিয়মও নেই। কিন্তু ৫৭তম স্যাটেলাইট প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে তারা স্মৃতি হিসেবে কিছু লেখার সুযোগ দিতে চান।

তখন তারানা হালিম প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ অমোচনীয় কালিতে নিজ হাতেই স্যাটেলাইটের গায়ে লিখে দেন- ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। স্যাটেলাইটের পুরো মেয়াদকাল ১৫ বছরেও মুছবে না এ লেখা।

আর এই স্লোগান নিয়েই কক্ষপথের দিকে ছুটবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

এদিকে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, উৎক্ষেপণের জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সব পরীক্ষার ফল ইতিবাচক। তবে এসব ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও কারিগরি বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বহু ঘটনা আছে, যেখানে কাউন্টডাউনের একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়েও উৎক্ষেপণ স্থগিত করতে হয়েছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে নির্দিষ্ট সময়েই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কক্ষপথের দিকে রওনা হবে।

জানা গেছে, তিন হাজার ৫০০ কেজি ওজনের জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফ্যালকন-৯ কক্ষপথের দিকে ছুটবে কেনেডি স্পেস সেন্টারের ঐতিহাসিক লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯-এ থেকে, যেখান থেকে ১৯৬৯ সালে চন্দ্রাভিযানে রওনা হয়েছিল অ্যাপোলো-১১।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ২০ দেশে ব্যবহারের জন্য এবং ২০টি ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব। এ ছাড়া নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকায় বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতার অবসান হবে। টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।