নারায়ণগঞ্জে নারী আনসার সদস্যদের অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ

../news_img/60617 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: নারায়ণগঞ্জ জেলায় প্রথমবারের মতো আনসার বাহিনীতে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছে ৭৫ তরুনী। স্থানীয় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী এসব তরুনীরা সদর উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার অজিৎ কুমারের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

প্রশিক্ষণ নেয়া ওই তরুনীদের দাবী, প্রতিটি নারীর ভেতরে একটা অসম্ভব ধরনের শক্তি আছে। সেটা কাউকে না কাউকে উন্মুক্ত করে দিতে হয়। শক্তিটাকে তার চোঁখের সামনে নিয়ে আসতে হয়।

নারী যে নিজেই একটা বড় শক্তি সে জিনিসটা যখন সে বুঝে যায়, তখন তার কাছে কোনও কাজই আর কঠিন মনে হয় না, দূরহ থাকে না। শিক্ষিত হোক আর নিরক্ষর হোক সে এগিয়ে যেতে পারে।’ উপজেলায় প্রশিক্ষন ক্যাম্পে একান্ত সাক্ষাৎকারে যুগান্তরকে এসব কথা বলেন ওই তরুনীরা।

কথা হয় নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইন্সটিটিউটের শেষ বর্ষের ছাত্রী মৌ রানী দাসের সঙ্গে। মৌ রানী ভালো ক্রিকেটও খেলেন। স্থানীয় শীতলক্ষ্যা ক্রিকেট একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করেন তিনি।

মৌ রানী দাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্যই আনসার বাহিনীতে যোগ দিয়েছি। প্রতিটি নারীর ভেতরে একটা অসম্ভব ধরনের শক্তি আছে। সেটা দেখানোর জন্য চেষ্টা করছি। মৌ রানী সদরের দেওভোগ আখড়া এলাকার বাবু দাসের মেয়ে।

নারী যে নিজেই একটা বড় শক্তি সে জিনিসটা যখন সে বুঝে যায়, তখন তার কাছে কোনও কাজই আর কঠিন মনে হয় না দাবী করে আড়াইহাজার সরকারী সফর আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্রী রাহিমা আক্তার বলেন, ধর্ষন, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং ও শ্লীলতাহানি প্রতিরোধে এবং সাধারন নারীদের কর্মমূখী করতে আনসার বাহিনীতে যোগ দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করছি। রাহিমা আক্তার আড়াইহাজার উপজেলার নয়াদ্দা গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে।

নারীর শক্তি কাউকে না কাউকে উন্মুক্ত করে দেখাতে হবে। আর সেই শক্তি দেখাতেই আনসার বাহিনীতে যোগ দিয়েছে সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উত্তীর্ণ হওয়া রূপগঞ্জ উপজেলার সুমি আক্তার। সুমি রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের খইসার গ্রামের কামাল হোসেনের মেয়ে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কলেজের অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মিনারা আক্তার বলেন, নারী শিক্ষিত হোক আর নিরক্ষর হোক তাকে দেশ উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য দেশে সরকারী বিভিন্ন সংস্থা আছে। সেসব সংস্থাতে গিয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী তাকে চেষ্টা করে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। মিনারা আক্তার বন্দর উপজেলার আলীনগর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে।

সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্সের শেষ বর্ষের ছাত্রী উম্মে হানি স্মৃতি বলেন, ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান আমলে নারায়ণগঞ্জে নারীরা রক্ষণশীলতার বেড়া ডিঙ্গিয়ে শিক্ষা, রাজনীতি, আন্দোলন-সংগ্রাম, স্বাধীনতা যুদ্ধ, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, সমাজ সেবা, সংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে যে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তা ছিল যেন, বেগম রোকেয়ার নারী জাগরণের মতোই সংগ্রাম। তাদের স্মরণ করেই আনসার বাহিনীতে যোগ দিয়েছি।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষিকা রোকসানা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় মেধাবী শিক্ষিত তরুনীরা আনসার বাহিনীতে যোগ দেয়ার অনেক আগ্রহ আছে। অনেক তরুনীই চায় দেশের জন্য স্ব স্ব স্থানে থেকে কিছু করতে। কিন্তু উৎসাহ না পাওয়ায় অনেকেই ঘরের চার দেয়ালে বন্দি আছে। আমরা সেসব নারীদের খোজে উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করছি।

সদর উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার অজিৎ কুমার দাস বলেন, আনসার ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ নুরুল আবছারের উদ্যোগ এবং চেষ্টায় জেলা থেকে ৭৫জন শিক্ষিত মেধাবী তরুনীর সন্ধান পেয়েছি। ওইসব তরুনীরা আনসার বাহিনীতে যোগ দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করার চেষ্টা করছে। তারা দেশের শান্তিশৃঙ্খলায় আরো উন্নত ঘটনানোর প্রত্যয় নিয়েছে।

তিনি আরো জানান, ২৪ এপ্রিল উদ্বোধন করা হলেও ২১ এপ্রিল থেকে নারীদের অস্ত্রসহ মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং শেষ হয়েছে ১১ মে। এদিন প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পুরস্কার, প্রশিক্ষণ সনদ ও যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়।