শাহবাগ ছাড়লেন আন্দোলনকারীরা, চলবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

../news_img/60700mm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে সাত ঘণ্টা বিক্ষোভের পর শাহবাগ ছেড়েছেন আন্দোলনকারীরা। একইসঙ্গে সংগঠনের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (১৪ মে) সন্ধ্যা ৭টায় শাহবাগ মোড়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বার্তা একটি বিশেষ মাধ্যমে আমাদের আমাদের কাছে পৌছে দিয়েছেন যে তিনি যা বলেছেন তার বাস্তবায়ন করবেন। তবে আমরা কোটা বাতিল বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকব। সংগঠনের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ঘোষণা অব্যাহত থাকবে, প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত।

হাসান আল মামুন বলেন, প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে আর আন্দোলন করব না। তবে ক্লাসে ফিরে যাব না প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত।

তিনি জানিয়েছিলেন, প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সরকার চাইলে কোটা বাতিল কিংবা আমাদের পাঁচ দফার ভিত্তিতে কোটা সংস্কার করতে পারে।

সড়ক ছাড়লেও প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে হাসান আল মামুন বলেন, আন্দোলন সাময়িক স্থগিত, তবে প্রত্যাহার নয়। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে। রাজপথে কোনো কর্মসূচি থাকবে না।

এরআগে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগে এসে সড়কে অবস্থান নেয়। এতে দুপুর পৌনে ১২টার পর থেকে শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে দেখা দেয় ব্যাপক যানজট। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা। এছাড়া একদিকে মতিঝিল ও অন্যদিকে নিউমার্কেট পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে।

জনদুর্ভোগ অবসানে আন্দোলনকারীদের সড়ক ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পুলিশও তাদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। তবে তাদের তুলতে পারছিল না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বিকেলে জানিয়েছিলেন, আমরা ধৈর্য্য ধরে আছি। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রজ্ঞাপণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা সড়ক থেকে না ওঠার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর পুলিশও কঠোর হওয়ার তোড়জোড় চালাচ্ছিল।

এর মধ্যেই অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানান আন্দোলনকারী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

গত ৮ এপ্রিল থেকে টানা পাঁচদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে সব চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সোমবার (১৪ মে) বেলা ১১টা পর্যন্ত এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি