ছাত্র আন্দোলনে অচল হতে চলেছে এস.আই.ইউ

../news_img/60774 mri nu.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: চার দফা দাবিতে ৩ দিন থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনে অচল হতে চলেছে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। শুক্রবার (২৫ মে) সকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মাস্টার্স প্রোগ্রামের (সন্ধ্যাকালীন) শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি না মানা হলে আগামী ২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া মিডটার্ম পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।

এর আগে গত বুধবার সমস্যা নিরসনে কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন শিক্ষর্থীরা। শিক্ষার্থীদের ৪৮ ঘন্টার এ আল্টিমেটাম শেষ হচ্ছে শনিবার। আল্টিমেটাম পরবর্তী কর্মসূচী ঠিক করতে শুক্রবার দুপুরে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বৈঠক করেছে। বৈঠকে তাদের দাবি মেনে নিয়ে সমস্যা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি দীর্ঘ আট বছর থেকে সমস্যা নিরসনে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলে কার্যত কোন ভূমিকা পালন করছেন না। এনিয়ে একাধিকবার শিক্ষার্থীরা লিখিত আবেদন করলেও তা আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। তাই এবার কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে স্থায়ী সমাধান না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, রাষ্ট্রপতি মনোনীত ভিসি, প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ নিয়োগসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এনিয়ে গত তিন দিন থেকে স্বারকলিপি প্রদান ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বৈঠক করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।

সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক শিক্ষার্থী রাজ্জাক খান রাজ, বর্তমান শিক্ষার্থী শুভন চৌধুরী, রনি আহমদ, রাসেল আহমদ, আজমল হুসেন, হাবীবুর রহমান, উত্তম দে, রেশমা বেগম, প্রিয়ন্ত সরকার, কে এম রাহাত, পার্থ, ফজলে রাব্বি, জিসান আহমদসহ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২২ মে) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের অবস্থা বর্ণনা করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সেখানে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিবাবকদের পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কেউ অনুমোদনবিহীন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাস বা অননুমোদিত কোনো প্রেগ্রামে কোর্সে ভর্তি হলে তার দায়-দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি নেবে না।”

এরপর থেকে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।