এক কলেজের ছাত্র অন্য কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি!

../news_img/60911 mri nu.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইছামতি ডিগ্রি কলেজের নবগঠিত ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গেলো ৩১ মে বৃহস্পতিবার ঢাকা জেলার সভাপতি মো. গিয়াসউদ্দিন সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এহসান আরাফ অনিক কলেজ শাখা ছাত্রলীগের পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন। তবে কমিটি হতে না হতেই কমিটির সভাপতি কাওছার আহমেদ, সহ-সভাপতি মাহাবুব আলম হৃদয় ও সাংগঠনিক সম্পাদক সানাম আহমেদ হৃদয়কে নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। আর কমিটি নিয়ে এমন বিতর্কে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সিহান প্রমানিক।

শুক্রবার জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট পদত্যাগ পাঠানোর বিষয়টি সিহান প্রমানিক আরটিভি অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন।

কলেজের ছাত্রলীগ নেতাদের অভিযোগ, কাওছার, মাহবুব ও সানাম এই তিনজনের ইছামতি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রত্ব নেই। আর সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক কেউ ইছামতি ডিগ্রি কলেজের ছাত্র না হওয়ায় নব কমিটি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা

জানা যায়, নতুন কমিটির সভাপতি মো. কাওছার আহমেদ নবাবগঞ্জের খাহ্রা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে ছাত্র। তাকে ইছামতি ডিগ্রি কলেজ কমিটির ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। ইছামতি ডিগ্রি কলেজের ছাত্র না হয়েও কিভাবে ছাত্রলীগের সভাপতি হলেন এমন ঘটনায় হতবাক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়। এছাড়া কমিটির সহ-সভাপতি মাহাবুব আলম হৃদয় ও সাংগঠনিক সম্পাদক সানাম আহমেদ হৃদয়ও ইছামতি ডিগ্রি কলেজের ছাত্র নয় বলে জানা যায়। 

এ ব্যাপারে নতুন কমিটির সভাপতি মো. কাওছার আহমেদের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সংযোগ কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি তিনি।

ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসহান আরাফ অনিক বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ৩ তারিখে ইছামতি ডিগ্রি কলেজে আমি যাব। সিউর না হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারছি না। শতভাগ নিশ্চিত হয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. গিয়াসউদ্দিন সোহাগ বলেন, আমরা কাগজপত্রের ভিত্তিতে নতুন কমিটির ঘোষণা করেছি। এছাড়া ইছামতি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন ওরা ওই কলেজের ছাত্র। এখন ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে দেখা হবে। যদি আমাদের সঙ্গে তারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। যে কলেজের ছাত্র না সে তো ওই কলেজের কমিটিতে থাকতে পারে না।

ইছামতি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ইকবাল হোসেন হাওলাদার বলেন, সভাপতি কাওছার আমার বিদ্যালয়ের ছাত্র নয়। তবে মাহাবুব আলম হৃদয় ও সানাম আহমেদ হৃদয় আমার কলেজের ছাত্র।