চাঁদপুরে আ’লীগ নেত্রী খুন, স্বামী আটক

../news_img/60960 mri nu.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: চাঁদপুর সদরে কলেজের অধ্যক্ষ ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শাহিনা সুলতানা ফেন্সি (৫৭) খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় ফেন্সির স্বামী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার রাত প্রায় ১০টায় শহরের ষোলঘর পাকামসজিদের দক্ষিণ পাশে শেখবাড়ি রোডে তার নিজ বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহিনা সুলতানা ফেন্সি ফরিদগঞ্জ গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ, মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক ভিপি ছিলেন। ফেন্সির পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুর পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের খলিশাডুলি গ্রামে।

স্বামী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়নের শিলন্দিয়া গ্রামের মিয়াজীবাড়ি। তার বাবা মৃত মো. নুরুল ইসলাম মিয়াজী। তিনি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি। নিহত ফেন্সির বড়ভাই ষোলঘর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নঈমুদ্দিন খান বলেন, তার ভগ্নিপতি অ্যাডভোকেট জহির দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন।

প্রথম স্ত্রী হচ্ছেন তার বোন ফেন্সি। তার বোনের সংসারে তিন মেয়ে রয়েছে। তাদের তিনজনেরই বিবাহ হয়েছে। দুই মেয়ে দেশের বাইরে থাকেন। অ্যাডভোকেট জহিরের দ্বিতীয় বিবাহ করা নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। তিনিসহ অন্য ভাইবোনেরা জোর দিয়ে বলেন, অ্যাডভোকেট জহিরই বোনকে খুন করেছেন।

নিহতের ছোট ভাই ফোরকান জানান, লোক মারফত খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে আসেন। এসে তার বোনকে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তমাখা ছিল। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

নিহতের আরেক ভাই নাঈম জানান, বোনজামাতা অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর গ্রামের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলায়। তার নাম জুলেখা বেগম। থাকেন চাঁদপুর শহরের নাজিরপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায়।

ওই সংসারে জহিরের এক মেয়েসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে তার বোনকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। বিষয়টি আমরা পারিবারিকভাবে জানলেও বোনজামাতা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে প্রতিবাদ করতে পারিনি। কারণ আমার তিনটি ভাগ্নি রয়েছে।

জহিরের ছোটভাই নয়ন জানান, তার ভাই মসজিদ থেকে নামাজ শেষ করে বাসায় ফিরে দেখেন ঘরের দরজা খোলা। ভেতরে ঢুকে দেখেন তার স্ত্রীর লাশ ফ্লোরে পড়ে আছে। তখনই তারা থানায় ফোন দেন।

মডেল থানার ওসি ওয়ালীউল্লাহ অলি জানান, লাশের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথার মাঝামাঝি স্থানে গভীর ক্ষত রয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী জহিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।