ব্যবসায়ীরা কি ডাকাত?

../news_img/Abdul Latif.jpg

মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ ::১০০০ টাকায় কিনে কেন ৫০০০ টাকা দাম চায়? নিশ্চয়ই এরা অসাধু ব্যবসায়ী। ঈদের বাজারে মানুষকে জবাই করছে। এরা ডাকাত। এসব কথা দোকানদারদের শুনতে হয় প্রায়ই। তারপরও এসব ডাকাতরা!মানুষের পাওনা দিতে পারে না, বাড়ী বানাতে পারে না, বউকে গাড়ী চড়াতে পারে না।

এতদিন দেখলাম সরকারী কোষাগার থেকে মাসোয়ারা নেয়া বিভিন্ন কর্মকর্তাদের দাপট- ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স দিচ্ছে না, ভ্যাট দিচ্ছে না, পরিবেশ সার্টিফিকেট নাই, সিভিল সার্জনদের সনদ নাই, লেভার অফিসের খাতায় লিখছে না ইত্যাকার শত অভিযোগ।
আরেকটি নতুন মাত্রা যোগ হলো- কেন ১০০০ টাকার ড্রেস ৫০০০ চাইবে? সত্যি-ইতো এরা এতো অসৎ। বৎসরে ৩৬৫ দিন দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, এসির খরচ, বিভিন্ন সংগঠনে চাঁদা, চমৎকার ডেকোরেশন, লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ১৫ দিন একটু কাস্টমারদের দেখা পায়। তারা এ কদিন কয় টাকা কামাই করতে পারবে সেটাই প্রশ্ন। তাছাড়া মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে যে কেউ তার পণ্যের দাম নির্ধারণ করতে পারে। কাস্টমার না কিনলে ৭০% ডিসকাউন্টে বিক্রি করবে। বিক্ত্রেতা এখানে ত একজন না যে সে রেশনের চাল বিক্রি করছে। ক্রেতা হিসাবে ওর দাম পছন্দ না হলে অন্য দোকানে যাবেন তাতে সমস্যা কোথায়। একটা চমৎকার পরিবেশে আপনি কেনাকাটা করবেন। আর দাম চাইলেই অপরাধ হয়ে গেলো – এটা কেমন কথা। এসব ব্যবসায়ীদের কিন্তু সঙ্গতিকে কুলায় না তারমতো দোকানের দামী পোষাকটা নিজের বাচ্চাদের জন্য কেনার। ওরা কিনে ফুটপাত থেকে। আপনিও কিনতে পারেন। ওখানে ১০০০ টাকা কেনার দাম হলে বিক্রেতা বলবে ১১০০। এদেশের কোটি কোটি মানুষ এসব ফুটপাত থেকেই কিনছে। তাছাড়া কম দামের অন্য শপিং সেন্টার ত আছেই। আপনারা কি কখনো ঈদের সময় ছাড়া অন্য সময়ে মার্কেটগুলোতে ঢুকে দেখেছেন- দোকানদাররা এতিমের মতো বসে থাকে। শপিং সেন্টারে ১০০ টা দোকান থাকলে কাস্টমার থাকে ১ বা ২ জন। যারা সারা বাজার চষে বেড়ায়। হয়তো সাত দিন ঘুরে একদিন কিনে। এসব দোকানদারদের পেট চলে কেমনে।

দেশে পলিটিকাল স্বার্থে সরকারী কর্মচারীদের বেতন অনেকগুণ বাড়ানো হয়েছে। তার সাথে ব্যাংক লুট করা কিছু কর্পোরেশন তাদের কর্মীদের বেতন ভাতা বাড়ীয়ে দিয়েছে। এসব লোকরা গাড়ীতে চলছে, বউকে সুন্দর সুন্দর গাড়ী চড়তে দিচ্ছে, বাচ্চাদের হাতে বান্ডিল বান্ডিল টাকা তুলে দিচ্ছে। বাড়ী করছে, একাধিক ফ্লাট কিনছে অথচ অর্থনীতিতে তাদের অবদান শূন্যের কোটায়। কিন্তু তার পুরষ্কার দুনিয়ায় শান্তি- বিয়ে করার সময়ে সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটাকে বিয়ে করে ফেলছে। অথচ কোন প্রেমিক বেচারা হয়ত তাকে অনেক বছর দেখে দেখে রেখেছে। উনাদের বৈধ ইনকাম হলো এই । আর অবৈধ- প্রতিদিন দেখবেন অমুক পিয়নের মাসিক আয় ৫ লাখ, অমুক কেরানীর মাসিক আয় ২০ লাখ, অমুক অফিসারের মাসিক আয় ৫০ লাখ, রাজনীতিবিদদের কথা বাদই দিলাম- ওখানে সব অর্জন বিনা ইনভেস্টমেন্টে। এগুলো কি বৈধ? এগুলোতে কি পুঁজি বিনিয়োগ হয়? এরা কি কেউ মাথায় হাত দিয়ে দোকানে তীর্থের কাকের মতো বসে থাকে? না এরা বসে থাকে এসি অফিসে। জিপিএ ৫ বিক্রি করে আড়াই লাখ, জমি বিক্রিতে ঘুষ নেয় লাখ লাখ করে, সরকারী বিভিন্ন কেনাকাটায় ১০০% বা তার চেয়ে বেশী বখরা নেয়। আরো কত কি। এসব বৈধ। আর অবৈধ হলো ৫০ লাখ খরচ করে ডেকরেশন করা ২/৩ কোটী টাকা বিনিয়োগ করা ব্যবসাতে ১০০০ টাকায় কেন জিনিস ৫০০০ দাম চাওয়া।

একবার আমার এক বন্ধু তার ফাইল আটকে দেয়া অফিসারকে বলছিলো- আমি ত এখানে ইনভেস্ট করেছি। আর আপনার টাকা ত সরকারী বেতনের এই চেয়ারে বসার ভাগ্য।
তাই কথায় কথায় অবৈধ বলতে একটু ভাবুন- ভেবে বলুন। আমি একবার এক মিটিং এ বলেছিলাম – রিসার্চ অরে দেখতে পারেন কতজন ব্যবসায়ী বাড়ী করতে পেরেছে আর কতজন সরকারী অফিসের পিয়নের নিজের বাড়ী নাই।
তাই ব্যবসায়ীদের সম্মান দিয়ে কথা বলুন। এরা টাকা বিনিয়োগ করে দাম চায়। আর আপনার .............................................