1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন

সিলেটে বড় দুই আয়োজনে উপেক্ষিত মিসবাহ সিরাজ!

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সম্মেলন আর কাউন্সিলের মধ্যদিয়ে সিলেট মহানগর যুবলীগ পেয়েছে নতুন নেতৃত্ব। আর রাত পোহালেই সিলেট হবে জেলা যুবলীগের সম্মেলন। মহানগরে দীর্ঘ ১৪ বছর আর জেলায় ১৬ বছর পর সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে যখন উৎসবের আমেজ, তখন আলোচনায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

সিলেটের দুটি বিশাল আয়োজনে নেই তিনি। শুধু নেই না, আমন্ত্রণই পাননি। রয়ে গেছেন একেবারে উপেক্ষিত হয়ে। কিন্তু দলীয় পদ-পদবী হারানোর ভয়ে কেউ এ নিয়ে মুখ না খুললেও ভেতরে ভেতরে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তবে দু-একজন তো পদ-পদবীর তোয়াক্কা না করে মুখ ফুটে বলেই ফেললেন তাদের হতাশার কথা। তিনবারের এ সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম কোন জায়গায় না থাকা এবং দাওয়াত না দেয়া রাজনীতিতে কিসের ইঙ্গিত তা নিয়েও প্রশ্ন করছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়- দুই সম্মেলন ঘিরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সকল নেতা আমন্ত্রণ পেলেও বঞ্চিত রয়ে যান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। নিজের শহরে যুবলীগের সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পেয়ে নিজেকে অনেকটা অপমানিতও বোধ করেন তিনি। তাই অনেকটা লজ্জায় জরুরি কাজ দেখিয়ে আগেভাগেই (২২ জুলাই) সিঙ্গাপুর পাড়ি জমান এ নেতা।

২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়া সিলেট মহানগর যুবলীগের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবির, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. লুৎফুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদসহ অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা। শুধু ছিলেন না মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। আর এতেই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

মিসবাহ সিরাজকে উপেক্ষিত রাখায় নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্টের মাধ্যমে নিন্দা প্রকাশ করেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরণ মাহমুদ নীপু। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন ‘মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বিহীন যুবলীগের সম্মেলন জাস্ট নাথিং মোর। বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের ৩ বারের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের নাম পোস্টারে না থাকাটা রাজনীতির কি ইঙ্গিত করে?’

তবে এসব বিষয়ে কিছু বলতে রাজি নয় যুবলীগ। তারা দায় চাপাচ্ছেন কেন্দ্রের উপর। মহানগর যুবলীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে কেন্দ্রের নির্দেশনা আর জেলার পক্ষ থেকে প্রথমে কোন মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগের কথা বলা হয়।

পরে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সদস্য এডভোকেট বেলাল হোসেনের সাথে সিলেট ভয়েসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- এরকম কোন নির্দেশনা আছে বলে আমি জানি না। তাছাড়া সম্মেলন সিলেটে হচ্ছে। তাই এখানে চিঠি, ব্যানার, পোস্টারে কার নাম রাখা হবে তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করবে।’

এর প্রেক্ষিতে পুনরায় আলাপকালে সিলেট জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামিম আহমদ (ভিপি) বলেন, ‘মহানগরের সম্মেলনের জন্য চিঠি বানিয়েছে মুক্তি। আমি তার কাছ থেকে এর একটি নমুনা নিয়ে কিছু জিনিস পরিবর্তন করে বাকি সব কিছু ঠিক রেখে জেলার জন্যও একটি বানিয়েছি। এর বাইরে কিছু না।’

তবে প্রথমে তিনি বলেছিলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কোন মন্তব্য করতে পারবো না। এটা কেন্দ্র ভালো বলতে পারবে।’

এরপর নবনির্বাচিত সভাপতি সাবেক আহ্বায়ক আলম খান মুক্তির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে মহানগর যুবলীগ সরাসরি দায় চাপাচ্ছে কেন্দ্রের উপর। তারা বলছে যা হয়েছে কেন্দ্রের নির্দেশনায় হয়েছে। মহানগর যুবলীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মুশফিক জায়গীরদার সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘ ব্যানার, চিঠি, পোস্টার সব কিছুই হয়েছে কেন্দ্রের নির্দেশনায়। এখানে কার নাম থাকবে আর কার নাম থাকবে না তা কেন্দ্র নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমরা কেন্দ্রের নির্দেশনা পালন করেছি মাত্র।’

এ ব্যাপারে এডভোকেট বেলাল হোসেন বলেন- ‘এখানে কেন্দ্রের নির্দেশনার কোন প্রশ্নই আসে না। তার পরও যদি কেউ বলে থাকে কেন্দ্রের নির্দেশনা তাহলে যিনি এটা বলেছেন তার কাছ থেকে নির্দেশনাটা কে দিয়েছেন উনার নাম জেনে নেন।’

বিষয়টি নিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন- ‘উনি (মিসবাহ সিরাজ) সিঙ্গাপুর। তাহলে উনি বা উনার নাম থাকবে কিভাবে। বাকিটা জেলা ও মহানগর যুবলীগই বলতে পারবে বলে জানান তিনি।’


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com