1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

মিন্নিকে ফাঁসিয়ে খুনীদের বাঁচাতে কাটছাঁট হয়েছে দ্বিতীয় সিসিটিভি ফুটেজ!

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ভাইরাল হওয়া দ্বিতীয় ভিডিওটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের দানা বেঁধেছে।

ভিডিও ফুটেজটি কাটছাঁট করে এডিট করে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দ্বিতীয় ভিডিওটি ছিল প্রায় ২১ মিনিটের। যা কেটেছেঁটে ১১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের অংশই বাদ দিয়ে ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডে আনা হয়। এটি সম্পাদনা করতে অন্তত চারবার ফুটেজটি কাটা হয়েছে।

একই সিসিটিভি ফুটেজের আরেকটি ভিডিও সরবরাহ করা হয়েছে যার দৈর্ঘ্য ছয় মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের। যে কারণে এ নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে নানা মহলে।

গত ২৬ জুন ওই হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হলে সেদিন বিকেলে মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজ প্রথম সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। সে ভিডিওতে শনাক্ত করা হয় খুনি নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীসহ আরও অনেককে।

এরপর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনুসন্ধানের মধ্যেই ৫ জুলাই ভাইরাল করা হয় হত্যাকাণ্ডের আরেকটি ভিডিও ফুটেজ। সেটি ছিল জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রণাধীন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ।

পুলিশের হাত হয়ে গণমাধ্যমে সেই ফুটেজটি প্রকাশ হলে নিহত রিফাতের বাবা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মামলার প্রধান স্বাক্ষী নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেন। মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

পরের দিন একই দাবিতে মানববন্ধন করার পর খুনের মামলার প্রধান সাক্ষী ও রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির স্বজনদের দাবি, খুনিদের আড়াল করতে ওই হত্যাকাণ্ডের পরপরই অপপ্রচার চালানো হয়। গণমাধ্যমে পুলিশের সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে রিফাতের পরিবারের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করা তারই একটি অংশ।

প্রথম ভিডিওতে স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রীর একাকি লড়াই দেখে অনেকেই মিন্নিকে ‘সাহসী নারী’ বলে সম্বোধন জানিয়ে আসছিল কিন্তু ৫ জুলাইয়ে রিফাত হত্যা ঘটনার দ্বিতীয় ভিডিও ফুটেজটি ভাইরালের পর অনেকেই মিন্নিকেও নয়ন বন্ডদের সহযোগী বলতে থাকেন।

জানা গেছে, ওই ভিডিও প্রকাশের পর ৬ জুলাই বরগুনা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। দ্বিতীয় ভিডিওটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তখন পুলিশ সুপার তার কার্যালয়ে আসা সব সাংবাদিককে তাদের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজটি সরবরাহ করেন।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ভিডিও ফুটেজ নিয়েছেন এমন অন্তত দুজন সাংবাদিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সুপার তার কার্যালয় থেকে নেয়া ভিডিও ফুটেজটি নিয়ে নিউজ করেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

জেলা পুলিশের দেয়া সেই ভিডিও (সিসিটিভি ফুটেজ) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মোট সাতবার ফুটেজটি কেটে এডিট করা হয়েছে ফুটেজটি। ছয় মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড থেকে ১০টা ৩৩ সেকেন্ড পর্যন্ত কাটা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ১০টা ২ মিনিট থেকে ১০টা ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ড পর্যন্ত নেই। তৃতীয় ধাপে ১০টা ৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড থেকে ১০টা ৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ড পর্যন্ত কাটা হয়েছে।

চতুর্থ ধাপে ১০টা ৬ মিনিট ৯ সেকেন্ড থেকে ১০টা ৯ মিনিট ৫২ সেকেন্ড পর্যন্ত, পঞ্চম ধাপে ১০টা ১০ মিনিট ৪২ সেকেন্ড থেকে ১০টা ১২ মিনিট ১ সেকেন্ড পর্যন্ত কাটা হয়েছে।

ষষ্ঠ ধাপে ১০টা ১২ মিনিট ১৯ সেকেন্ড থেকে ১০টা ১২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড পর্যন্ত ছেঁটে ফেলা হয়েছে। সবশেষে ১০টা ১৬ মিনিট ১ সেকেন্ড থেকে ১০টা ২৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ড পর্যন্ত নেই ভিডিওতে।

এই ভিডিওটি পুলিশ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওই ঘটনার পর জাতীয় দৈনিকে কর্মরত এক সাংবাদিক জেলা পুলিশের সঙ্গে দ্বিতীয় ভিডিও ফুটেজটি নিয়ে কথা বলতে যান।

তখন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ওই সাংবাদিককে একটি সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করেন। সেখানে দেখা যায় ভিডিওটি প্রায় ২১ মিনিটের। আর তার ১১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডই কেটেছেঁটে বাদ দেয়া হয়েছে। অন্তত চারবার ফুটেজটি কেটে এডিট করে ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডের উপস্থাপন করা হয়। সেই ফুটেজের ১০টা ৬ মিনিটের পর ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও পাওয়া যায়নি।

১০টা ১১ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের পর এক মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিও অনুপস্থিত। এর পর ১০টা ১৫ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের পর ৭ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের ভিডিও নেই সেই ফুটেজে।

এছাড়াও হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে মোবাইল ফোন নিয়ে দ্বন্দ্বের একটি গুজব ছড়ানো হয়েছে। নয়ন বন্ড গ্রুপের সদস্য হেলালের মোবাইল নিয়েছিল রিফাত। সেই মোবাইল ফোনকে ঘিরেই এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে গুজব রটানো হয়। পরে এ বিষয়ে হেলালের বোন পারুল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মোবাইল নেয়ার পর রিফাত আবার দিয়ে যায়, আমাদের সঙ্গে তার কোনো ঝামেলা ছিল না, হয়ওনি।’

এদিকে সরবরাহ করা ভিডিওতে কাটছাঁট করার বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য না পাওয়া গেলেও বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন বলেছেন, ‘সঠিকভাবেই এগুচ্ছে রিফাত শরীফ হত্যা তদন্ত যারা হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের বেশিরভাগই গ্রেফতার হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ’

প্রসঙ্গত গত ১৬ জুলাই মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরসহ মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় মিন্নিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

১৭ জুলাই বুধবার বিকেল ৩টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নিকে হাজির করলে তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী।

এর পর ২২ জুলাই মিন্নির জামিনের জন্য বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন তার আইনজীবী মো. মাহবুবুল বারী আসলাম। শুনানি শেষে প্রথম দফায় মিন্নির জামিন নামঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে মিন্নিসহ ১৫ জন অভিযুক্তই রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।যুগান্তর


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com