1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৪ অপরাহ্ন

পুরো বাসটিতে অনিয়ম সড়কেও ত্রুটি

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: রাস্তায় চলতে চলতে বাসটির সামনের ডান পাশের চাকার টায়ার ক্ষয় হয়ে গিয়েছিল। রাস্তার সঙ্গে ঘর্ষণে উত্তপ্ত হয়ে চাকাটি বিস্ম্ফোরিত হয়। এতে মাওয়াগামী স্বাধীন পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডান পাশে চলে যায়। বিপরীত দিক থেকে আসা বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় নয়জন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যাত্রীবাহী ওই বাসটিজুড়েই নানা অনিয়ম। সড়কেও রয়েছে ত্রুটি। এ কারণেই শুক্রবার মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ষোলঘরে মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

গতকাল শনিবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ। তিনি সমকালকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে চাকা বিস্ম্ফোরিত হয়ে বাস নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সড়কের মাঝে বিভাজক নেই। নেই লেন চিহ্নিত করার মার্কিং (দাগ)। এ কারণে দ্রুতগতির গাড়িগুলো বুঝতে পারে না কে কোন লেনে চলবে। তিনি জানান, স্বাধীন পরিবহনের ওই বাস অনিয়মে ভরা। বাসে ৪০টি আসন থাকার কথা; রয়েছে ৫১টি। বাসের বগিও নিয়ম মেনে তৈরি হয়নি। চাকা থেকে দুই পাশে অন্তত ১০ ইঞ্চি করে বাড়ানো হয়েছে বডির প্রশস্ততা। আকার পরিবর্তনের কারণে বাসের ভারসাম্য নষ্ট হয়। আইন অনুযায়ী, চাকার সমান্তরালে বাসের বডি থাকবে। বাসটির গতিও ছিল বেশি। যে কারণে সংঘর্ষে বাস এবং মাইক্রোবাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় নতুন সড়ক পরিবহন আইনের ৮৪ ধারা অনুযায়ী, নিয়ম ভেঙে গাড়ি আকৃতি পরিবর্তন করলে এক থেকে তিন লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। হতে পারে তিন বছর জেলও। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আন্দোলনে এ ধারার প্রয়োগে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাইফুন নেওয়াজ সমকালকে বলেন, ওভারটেক করার কারণেও বাসটি মাইক্রোকে আঘাত করতে পারে। তবে তেমন সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ এমনটি ঘটে থাকলে চাকা বিস্ম্ফোরিত হতো না। বাসের ছয়টি চাকার একটিরও অবস্থা ভালো নয়। পেছনের চাকা রি-ট্রেডিং (তালি) করা। মানে টায়ারের উপরিভাগ চলতে চলতে ক্ষয় হয়ে যাওয়ার কারণে তার ওপর রাবারের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে।

একজন বাস মালিক সমকালকে জানিয়েছেন, সামনের চাকায় তালি মারা হয় না। পেছনের চাকায় মারা হয়। পেছনের চাকার এক জোড়া টায়ারের দাম ৫২ থেকে ৫৬ হাজার টাকা। ছয় মাস থেকে এক বছর চলে এক জোড়া টায়ারে। আট থেকে নয় হাজার টাকায় পুরোনো টায়ার তালি মারলে তিন থেকে চার মাস চলে। ব্যয় কমাতে মালিকরা নতুন টায়ার না কিনে তালি মারেন। তবে মহাসড়কে রাবারের প্রলেপ লাগানো টায়ার দিয়ে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ।

রাজধানীর পোস্তগোলা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। ষোলঘরের যে স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে রাস্তা দুই লেনের কাজ শেষ হয়েছে। বিপরীত পাশে দুই লেনের কাজ চলছে। তাই কাজ শেষ হওয়া দুই লেন দিয়ে উভয়মুখী গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু তাতে নেই লেন মার্কিং।

স্বাধীন পরিবহনের মালিক ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। তবে যে বাসটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে, তার মালিক কে তা এখনও জানা যায়নি। বাসের নম্বর ঢাকা মেট্রো ব-১৪৮১৯৪।

হাইওয়ে ও শ্রীনগর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণকাজের কারণে ওই রাস্তায় গতিসীমা ছিল ৩০ কিলোমিটার। বাসটি চলছিল তার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে। চালক পলাতক। তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com